
দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় মাধ্যমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করছেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফজলে এলাহী। সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে উপজেলার শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে তিনি বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করছেন বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চিরিরবন্দর উপজেলায় প্রায় ১৭০টি সরকারি, বেসরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে পরিচালিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মানোন্নয়নে ভূমিকা রাখছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয়। প্রতিবছরের মতো এবারও এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে উপজেলার শিক্ষার্থীরা সাফল্য অর্জন করেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এক সাক্ষাৎকারে মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মোঃ ফজলে এলাহী বলেন, “মাধ্যমিক শিক্ষা হচ্ছে শিক্ষার মেরুদণ্ড। এই স্তরের শিক্ষা শক্তিশালী না হলে সামগ্রিক উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হবে। তাই মাধ্যমিক শিক্ষার কার্যক্রম আরও গতিশীল করা জরুরি।” তিনি বলেন, চিরিরবন্দরকে অনেকে শিক্ষা নগরী হিসেবে অভিহিত করেন। এখানে এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি আইডিয়াল, আমেনাবকী ও মেহের হোসেন রেসিডেন্সিয়ালসহ বেশ কয়েকটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার চাহিদা পূরণে ভূমিকা রাখছে। তবে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে পিছিয়ে রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার মানোন্নয়নে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। এতে আগামীতে পিছিয়ে থাকা প্রতিষ্ঠানগুলোও সন্তোষজনক ফলাফল অর্জন করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ঝরে পড়া রোধ, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা সৃষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে সরকারি, বেসরকারি ও প্রাইভেট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান। ফজলে এলাহী বলেন, “জাতীয় সমস্যা মোকাবিলা এবং সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত দেশ গড়তে আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার বিকল্প নেই।” দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমাদের চাকরিটি একটি থ্যাংকলেস জব। ধন্যবাদ পাওয়ার জন্য নয়, বরং নানা সমালোচনা উপেক্ষা করে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় আমরা কাজ করে যাচ্ছি।” বিনামূল্যে পাঠ্যবই বিতরণ প্রসঙ্গে তিনি জানান, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) মাধ্যমে স্কুল ও মাদ্রাসার বই অক্টোবরের শুরু থেকেই আসতে শুরু করেছে। বই গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণের কার্যক্রম ফেব্রুয়ারি-মার্চ পেরিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে এপ্রিল পর্যন্ত চলতে পারে। এ কাজে প্রায় ছয় মাস সময় ও শ্রম দিতে হয় বলে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি আরও বলেন, কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পৌঁছাতে এক দিন দেরি হলেও অনেক সময় শিক্ষা কর্মকর্তাদের সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। অথচ বই সংগ্রহ থেকে বিতরণ পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় নানা ধাপ ও বাস্তবতা রয়েছে। দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেই তাঁরা কাজ করে যাচ্ছেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply