
মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে চুয়াডাঙ্গায় শেষ হয়েছে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে জেলা শহরের বড় বাজার এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। উলুধ্বনি, শঙ্খধ্বনি আর ঢাকের বাদ্যে বর্ণাঢ্য বিজয়া শোভাযাত্রায় ছিল উৎসবের আমেজ। তবে প্রতিমা বিসর্জনের মুহূর্তে আনন্দের পাশাপাশি ভক্তদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে প্রিয় দেবীকে বিদায় জানানোর বিষাদ। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারসহ জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা। বুধবার সকাল থেকেই চুয়াডাঙ্গা জেলা শহর, আলমডাঙ্গাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলার পূজামণ্ডপগুলো ছিল ভক্তদের পদচারণায় মুখর। বিজয়া দশমীর আনুষ্ঠানিকতা শেষে নারীরা অংশ নেন সিঁদুর খেলায়। ঢাকের তালে ধুনুচি নাচ, শঙ্খধ্বনি ও নানা আয়োজনে উৎসবমুখর হয়ে ওঠে মণ্ডপ প্রাঙ্গণ। একে অপরকে বিজয়ার শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি এবং সবার মঙ্গল কামনায় প্রার্থনা করেন ভক্তরা। বিকেল থেকে শুরু হয় প্রতিমা বিসর্জনের প্রস্তুতি। ঢাকের বাদ্য ও বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে প্রতিমা নিয়ে শোভাযাত্রায় অংশ নেন ভক্তরা। পরে জেলা শহরের বড় বাজার এলাকায় মাথাভাঙ্গা নদীতে প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হয়। অন্যদিকে, আলমডাঙ্গা উপজেলার ৩৯টি পূজামণ্ডপের প্রতিমা মাথাভাঙ্গা নদী, জিকে সেচ খালসহ নির্ধারিত জলাশয়ে বিসর্জন দেওয়া হয়। এ বছর চুয়াডাঙ্গা জেলার চার উপজেলায় মোট ১১৬টি পূজামণ্ডপে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এর মধ্যে আলমডাঙ্গায় ৩৯টি, চুয়াডাঙ্গা সদরে ৩৩টি, দামুড়হুদায় ২০টি এবং জীবননগরে ২৪টি মণ্ডপ ছিল। দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া হয়েছিল বাড়তি নিরাপত্তাব্যবস্থা। পূজামণ্ডপগুলোতে নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবকদের পাশাপাশি পুলিশ ও আনসার সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। গুরুত্বপূর্ণ মণ্ডপগুলোতে পুলিশ মোতায়েনের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি), জেলা বিশেষ শাখা (ডিএসবি) ও ট্রাফিক পুলিশসহ জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট নজরদারি চালায়। যানজট নিয়ন্ত্রণেও তৎপর ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের সদস্যরা। চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ার জানান, আলমডাঙ্গায় কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শারদীয় দুর্গোৎসব সম্পন্ন হয়েছে। জেলার দুর্গোৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রয়োজনীয় নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। আনন্দ, উৎসব ও সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় জানান ভক্তরা। প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হয় এবারের শারদীয় দুর্গোৎসব। উৎসবের স্মৃতি, বিদায়ের সুর আর আগামী বছর আবারও দেবীর আগমনের প্রত্যাশা নিয়ে শেষ হয় সনাতন ধর্মাবলম্বীদের এই মহোৎসব।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply