অর্থের অভাবে যেন কোনো মানুষ চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন—এমন লক্ষ্য নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করেছেন ফ্রান্স বিএনপির কোষাধ্যক্ষ ও আসন্ন রামগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচনে সম্ভাব্য মেয়র প্রার্থী সাইফুল ইসলাম। ‘রামগঞ্জের পথে’ নামের একটি সামাজিক সংগঠনের ব্যানারে তাঁর সার্বিক তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। এতে প্রায় ৪ হাজার ৫০০ সুবিধাবঞ্চিত ও অসহায় রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও ওষুধ দেওয়া হয়েছে। গত ২৬ অক্টোবর পৌরসভার বাঁশঘর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এরপর পর্যায়ক্রমে নন্দনপুর, সাতারপাড়া, কলচমা, টামটা, সোনাপুর, কাজিরখিল, অভিরামপুর, আংগারপাড়া ও রতনপুরসহ পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়। ক্যাম্পে ডা. আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ সাতজন নিবন্ধিত চিকিৎসক রোগীদের চিকিৎসাসেবা দেন। চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী রোগীদের বিনামূল্যে ওষুধও সরবরাহ করা হয়। এ সময় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা কর্মসূচি বাস্তবায়নে সহযোগিতা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভবিষ্যতে বিনামূল্যে চক্ষু শিবিরসহ এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। মানুষের কল্যাণই রাজনীতির মূল লক্ষ্য—সাইফুল ইসলাম ক্যাম্পেইন প্রসঙ্গে সাইফুল ইসলাম বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, রাজনীতির প্রকৃত সার্থকতা মানুষের কল্যাণে কাজ করার মধ্যে। পদ-পদবি কিংবা পরিচয়ের চেয়ে মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অনেক বড় অর্জন। রামগঞ্জের অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্য থেকেই আমাদের এ উদ্যোগ। অর্থের অভাবে কেউ যেন চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, সে বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্পেইনের আয়োজন করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “রাজনীতি শুধু পদ-পদবি কিংবা ব্যক্তিগত অর্জনের বিষয় নয়; রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হওয়া উচিত মানুষের কল্যাণে কাজ করা। মানুষের ভালোবাসা ও সহযোগিতা নিয়ে ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখতে চাই, ইনশাআল্লাহ।”

সেবাগ্রহীতাদের সন্তুষ্টি
ক্যাম্পেইনে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা এক সেবাগ্রহীতা বলেন, “আমাদের মতো সাধারণ ও অসচ্ছল মানুষের জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। এখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পেয়ে আমরা সত্যিই উপকৃত হয়েছি।”আরেক সেবাগ্রহীতা বলেন, “শুধু আশ্বাস নয়, মানুষের প্রয়োজনে বাস্তবে পাশে দাঁড়ানোই সবচেয়ে বড় বিষয়। এমন উদ্যোগের ফলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছে। আমরা চাই, ভবিষ্যতেও এ ধরনের চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকুক।” স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, গ্রামীণ ও অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবার এমন আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ। সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তিরা এগিয়ে এলে স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত মানুষের দুর্ভোগ কমানো সম্ভব। সামাজিক দায়বদ্ধতা ও মানবিক মূল্যবোধ থেকে আয়োজিত এ কর্মসূচির মাধ্যমে পৌর এলাকার সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
Leave a Reply