
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় চতুর্থ শ্রেণির এক ছাত্রীকে যৌন হয়রানির অভিযোগে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষককে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী তাঁকে বিদ্যালয়ের একটি কক্ষে আটকে রাখেন। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং অভিযুক্ত শিক্ষককে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মো. এনামুল হক (৪৫)। তিনি আলমডাঙ্গা উপজেলার বড় গাংনী (মাটিয়ারপাড়া) গ্রামের মো. মনছুর আলীর ছেলে। তিনি উপজেলার বন্দরভিটা আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে কর্মরত। ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বন্দরভিটা গ্রামের বাসিন্দা ইনামুল হক জানান, তাঁর ১৩ বছর বয়সী মেয়ে ওই বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, অভিযুক্ত শিক্ষক এর আগেও স্কুলে যাতায়াতের পথে এবং বিভিন্ন সময় সুযোগ বুঝে তাঁর মেয়েকে অশালীন কথাবার্তা ও কুপ্রস্তাব দিতেন।লিখিত অভিযোগে ছাত্রীর বাবা উল্লেখ করেন, গত ৫ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ে অবস্থানকালে শিক্ষক এনামুল হক তাঁর মেয়েকে ডেকে বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় তলার উত্তর পাশের বাথরুমের সামনে নিয়ে যান। সেখানে তাকে জাপটে ধরে যৌন হয়রানি করেন এবং শরীরের বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এ সময় ছাত্রীর চিৎকার শুনে বিদ্যালয়ের অন্য শিক্ষার্থীরা এগিয়ে এলে অভিযুক্ত শিক্ষক তাকে ছেড়ে সেখান থেকে সরে যান। ছাত্রীর বাবার দাবি, পরবর্তী সময়ে বিষয়টি সহপাঠীদের মধ্যে জানাজানি হলে গত সোমবার সকালে তাঁর মেয়ে তাঁকে ঘটনাটি জানায়। পরে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টি প্রকাশ্যে আনেন তিনি। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে অভিযুক্ত শিক্ষককে একটি কক্ষে আটকে রাখেন। খবর পেয়ে বড় গাংনী পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (আইসি) আল-হেলাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে যান। পরে তাঁকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়। এদিকে, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা আলমডাঙ্গা থানায় লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন। আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহা. আলাউদ্দিন জানান, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. এনামুল হকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীর শরীরের স্পর্শকাতর স্থানে হাত দেওয়ার অভিযোগ তদন্তে গত ১ নভেম্বর পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. বখতিয়ার উদ্দিন, মোহাম্মদ শাহজাহান রেজা, মোহাম্মদ সেলিম রেজা, বগাদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জিন্নাত আরা এবং গৌরীহৃদ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা পারভিন। আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে কমিটিকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।আলমডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, অভিযুক্ত শিক্ষককে বিদ্যালয় থেকে উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ছাত্রীর বাবা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মঙ্গলবার তাঁকে আদালতে পাঠানো হবে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply