1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. wpsvc_6eb0338d2040@wordpress-svc.internal : wpsvc_6eb0338d2040 :
  3. admin@cnbtvbd.com : admin :
November 7, 2026, 7:07 am

জাল স্বাক্ষরে শিক্ষার্থী ভর্তি ও নিয়োগ: ডিবির জালে স্কুলের অফিস সহকারী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : শুক্রবার, অক্টোবর ৩০, ২০২৬
  • 12 Time View

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ে সাবেক জেলা প্রশাসক ও শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন এবং কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরিসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও প্রতারণার অভিযোগে সাহাজামাল শেখ (৪০) নামে এক অফিস সহকারীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) তাকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা সদর থানায় হস্তান্তর করে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম সদর থানায় একটি মামলা করেন। পরে ওই মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। গ্রেফতার সাহাজামাল শেখ চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার হাজরাহাটি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত ছিলেন। মামলায় তাকে প্রধান আসামি করার পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ১ আগস্ট বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন শেখ রেজাউল করিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি অফিস সহকারী সাহাজামাল শেখের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ জানতে পারেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেল ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ.বি.এম. খালিদ হোসেন সিদ্দিকী বিদ্যালয়টি আকস্মিক পরিদর্শনে যান। এ সময় তিনি অফিস সহকারী সাহাজামাল শেখের অফিসকক্ষ ও ডরমেটরি কক্ষ পরিদর্শন করেন। একপর্যায়ে তার ব্যবহৃত কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন ফাইল পরীক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার সাবেক জেলা প্রশাসক ড. কিসিঞ্জার চাকমা, বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষকসহ একাধিক শিক্ষকের স্ক্যান করা স্বাক্ষর পাওয়া যায় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব স্বাক্ষর সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে সাহাজামাল শেখ বিভিন্ন অনিয়মের কথা স্বীকার করেন বলে এজাহারে দাবি করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, এসব স্বাক্ষর ব্যবহার করে প্রতারণার মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার উদ্দেশে শিক্ষার্থী ভর্তি, শিফট পরিবর্তন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র তৈরি করা হয়। এ ছাড়া তার অফিসকক্ষ থেকে ১০০ টাকা মূল্যমানের চারটি নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্প উদ্ধারের কথাও এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, বিদ্যালয়ের সাবেক দুই শিক্ষার্থীর শূন্য আসনে অন্য শিক্ষার্থীদের ভর্তি করাতে এফিডেভিট তৈরি ও আর্থিক লেনদেন করা হয়েছে। পাশাপাশি ২০২৬ শিক্ষাবর্ষে তৃতীয় শ্রেণির প্রভাতী শিফটের ‘ক’ ও ‘খ’ শাখায় মোট ১৬ জন এবং পঞ্চম শ্রেণিতে আরও একজনসহ ১৭ জন শিক্ষার্থীকে অর্থের বিনিময়ে ভর্তি করানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়াই এসব ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়। এ ছাড়া অভিযুক্ত সাহাজামাল শেখের নিজের নিয়োগসংক্রান্ত একটি নিয়োগপত্র এবং ২০১৬ সালের ৪ জুলাই তারিখের একটি যোগদানপত্র পাওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব কাগজপত্রের বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে। মামলার এজাহারে বিদ্যালয়ের শিক্ষক শাহজাহান আলী ও ইমন আলীকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান জানান, মামলার পর অভিযুক্ত অফিস সহকারী সাহাজামাল শেখকে সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং আইনগত প্রক্রিয়ায় পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost