প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আদালত এলাকায় প্রকাশ্যে এ ধরনের স্বীকারোক্তিমূলক লেখা বুকে ঝুলিয়ে রাখা নজিরবিহীন ঘটনা। এতে আদালত প্রাঙ্গণে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। অনেকে বিষয়টি মোবাইলে ধারণ করতেও দেখা যায়। আটককৃত ব্যক্তিরা হলেন- আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদ। কিশোরগঞ্জ জেলার সোনাপুর গ্রামের মোঃ চাঁন মিয়া ছেলে।
দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলার মজলিশপুর গ্রামের মৃত ফইজুদ্দিন বিশ্বাসের ছেলে মুকবুল হোসেনের ,সঙ্গে ঢাকা বার কাউন্সিলের অ্যাডভোকেট হিসেবে পরিচয় হয় ভুয়া আইনজীবী আবু সালেহ মাহমুদ ওরফে সাগর আহমেদের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে আইনজীবী পরিচয় দিয়ে মামলাসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, তিনি মামলার অগ্রগতি, জামিন কিংবা রায় প্রভাবিত করার আশ্বাস দিয়ে বিভিন্ন সময় অর্থ নিতেন। মঙ্গলবার দুপুরে দামুড়হুদা উপজেলার কলাবাড়ি গ্রামের চাঁন আলী ছেলে মোহাম্মদ জামাত আলীর কাজ থেকে ফৌজদারি মামলায় আদালত থেকে রায় পাইয়ে দেওয়ার কথা বলে ৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেই। চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির কাছে বিচার দিলে তাকে আটক করে। আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো বৈধ সনদ বা আইনজীবী হিসেবে নিবন্ধনের কাগজপত্র দেখাতে পারেননি।
দামুড়হুদার কলাবাড়ি গ্রামের গোলাম মোস্তফা এর ছেলে ,মিজানুর রহমান নামে এক ভুক্তভোগী জানান,জমিজমা সংক্রান্ত ফৌজদারি মামলা সাড়ে ৫ লাখ টাকার বেশি হাতিয়ে নিয়েছেন। একই অভিযোগ তুলে আলমডাঙ্গা উপজেলার ,এরশাদপুর গ্রামের মৃত জুমার আলী ছেলে মোহাম্মদ বিপ্লব আলী ভুক্তভোগী বলেন নিজেকে ঢাকা বার কাউন্সিলের আইনজীবী বলে পরিচয়ে প্রতারণার করে আমার কাছ থেকে ১ লক্ষ ৩ হাজার টাকা নিয়েছে।
আইনজীবীরা বলেন, আদালত চত্বরকে টাউটমুক্ত রাখতে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর পদক্ষেপ জরুরি। এতে বিচারপ্রার্থী সাধারণ মানুষ প্রতারণার হাত থেকে রক্ষা পাবেন।ভবিষ্যতে যেন কেউ এ ধরনের প্রতারণার শিকার না হন, সে উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আদালত এলাকায় টাউট ও দালালদের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির অংশ হিসেবেই এমন ব্যবস্থা বলে জানিয়েছেন তারা।
চুয়াডাঙ্গা জেলা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট খন্দকার অহিদুল ইসলাম বলেন, কিশোরগঞ্জের মিঠামইন এলাকার সাগর আহম্মেদ নিজেকে উচ্চ আদালতের আইনজীবী পরিচয়ে দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রতারণা করে আসছিলেন। সম্প্রতি তিনি একই পরিচয় ব্যবহার করে চুয়াডাঙ্গা দামুড়হুদা উপজেলার পাটাচোরা গ্রামে বিয়ে করে বসবাস শুরু করেন। ইতোমধ্যে তিনি চুয়াডাঙ্গার আদালতপাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে নিজের ভুয়া পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ বিচারপ্রার্থীদের কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া শুরু করেছেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, মঙ্গলবার এক ভুক্তভোগী তার বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গার আদালতে মামলা করতে এসে আদালত চত্বরেই সাগর আহম্মেদের দেখা পেয়ে তাকে আটক করে আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে আসেন। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে অভিযুক্ত সাগর আহম্মেদ নিজের দোষ স্বীকার করেছেন। পরে তাকে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “আইনজীবী সমিতির সদস্যরা দুজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছেন। তাদের থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
Leave a Reply