1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. wpsvc_6eb0338d2040@wordpress-svc.internal : wpsvc_6eb0338d2040 :
  3. admin@cnbtvbd.com : admin :
November 7, 2026, 5:04 am

মোহনপুরে সাত মাসে পাঁচ খুন, নানা অভিযোগের মুখে ওসি মিজানুর রহমানের বদলি

শাহাদত হোসেন, রাজশাহী প্রতিনিধি
  • Update Time : মঙ্গলবার, নভেম্বর ৩, ২০২৬
  • 13 Time View

রাজশাহীর মোহনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানকে জেলা পুলিশ রিজার্ভ অফিসার (আরও) হেডকোয়ার্টারে বদলি করা হয়েছে। গত ১ নভেম্বর রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মামুন অর রশিদ স্বাক্ষরিত এক আদেশে জনস্বার্থে তাঁকে বদলি করা হয়। আদেশের স্মারক নম্বর ৩৭১৯(২৬)। ওসির বদলির খবর ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, বদলির খবরে তাঁরা স্বস্তি পেয়েছেন। এমনকি স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি থানার কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের মধ্যে মিষ্টি বিতরণের খবরও পাওয়া গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে সাধারণ মানুষ ও অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ এবং মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগ ছিল ওসি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে। তাঁর প্রায় সাত মাসের দায়িত্বকালে উপজেলায় পাঁচটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনাও ঘটেছে। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তাঁর দায়িত্ব পালনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।  স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ৬ এপ্রিল মোহনপুর থানায় যোগদানের পর থেকেই ওসি মিজানুর রহমানের আচরণ নিয়ে বিভিন্ন মহলে অসন্তোষ তৈরি হয়। থানায় সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষের সঙ্গে দুর্ব্যবহার এবং অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের একাধিক অভিযোগ ওঠে তাঁর বিরুদ্ধে। উপজেলার মৌগাছি বাজার এলাকার গৃহিণী আরেচার অভিযোগ, বিরোধী পক্ষ তাঁর বাড়িঘর ভাঙচুর করলে তিনি বাধা দেন। এ সময় তাঁকে মারধর করে আহত করা হয়। পরে বিচার ও আইনি সহায়তার আশায় থানায় গেলে ওসির কক্ষে তাঁকে কথা বলার সুযোগ না দিয়ে বিবাদীপক্ষের পক্ষে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাঁকে গালিগালাজ করে কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন আরেচা। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত ৬ আগস্ট স্থানীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনও করেন তিনি। অন্যদিকে, কেশরহাট পৌর এলাকার ব্যবসায়ী আলহাজ মো. শাফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, একটি চোরাই মোটরসাইকেলের সন্ধান দিতে থানায় গেলে ওসি তাঁর সঙ্গে অপমানজনক আচরণ করেন।

মোহনপুর উপজেলায় মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণে পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও গণমাধ্যমকর্মীরা। উপজেলায় কর্মরত কয়েকজন গণমাধ্যমকর্মীর অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানাতে ওসির সরকারি নম্বরে একাধিকবার ফোন করেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। এমনকি নির্দিষ্ট এলাকায় মাদক কারবার চলার তথ্য দেওয়ার পরও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাঁদের দাবি, বিষয়টি উপজেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভাতেও একাধিকবার আলোচনায় এসেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও মাদকবিরোধী কার্যক্রমে ওসির ভূমিকা নিয়ে সভায় সাংবাদিকেরা বিভিন্ন প্রশ্ন ও অভিযোগ তুলে ধরেছেন। এ ছাড়া স্থানীয় বিএনপির দায়িত্বশীল নেতাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ব্যক্তিগত ও মানবিক সহায়তার প্রত্যাশায় থানায় গিয়েও কাঙ্ক্ষিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

সর্বশেষ গত ৩১ অক্টোবর রাত সাড়ে ১২টার দিকে মোহনপুর থানায় গিয়ে দুর্ব্যবহারের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেন উপজেলার খয়রা গ্রামের সরকারি কলেজের প্রভাষক আব্দুল হাকিম ও মাহবুব নামের আরেক ব্যক্তি। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগে উদ্ধার করে থানায় রাখা বাজাজ ১৩৫ সিসির একটি মোটরসাইকেলের বিষয়ে খোঁজ নিতে তাঁরা থানায় যান। এ সময় তাঁদের দেখে ওসি ক্ষুব্ধ হন। পেশা নিয়ে তুচ্ছতাচ্ছিল্য করার পাশাপাশি অপমানজনক কথা বলে তাঁদের থানা থেকে বের করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ করেন তাঁরা।

ওসি মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অধীনস্থ পুলিশ সদস্যদের কাছ থেকে মাসে দুই লাখ টাকা দাবি করার অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকজনের দাবি, এ অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কারণে পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বিরোধ ও দুর্ব্যবহারের ঘটনা ঘটে। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।  এ বিষয়ে রাজশাহী জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, ওসির বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ ছিল। নিয়মিত বদলির অংশ হিসেবে তাঁকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে যোগদানের জন্য বদলি করা হয়েছে। তবে বদলির আদেশে জনস্বার্থের কথা উল্লেখ থাকলেও উত্থাপিত অভিযোগগুলোর কারণে তাঁকে বদলি করা হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। এ বিষয়ে ওসি মিজানুর রহমানের বক্তব্য জানতে চেষ্টা করেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, শুধু বদলি করেই যেন দায়িত্ব শেষ না করা হয়। ওসির বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মোহনপুরে মাদক কারবার নিয়ন্ত্রণ, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জন্য পুলিশের সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। তাঁদের প্রত্যাশা, মোহনপুর থানায় জবাবদিহি ও নাগরিকবান্ধব পুলিশি সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি এলাকার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost