
জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন দরিদ্র ভ্যানচালক বাহাদুর (৫০)। প্রতারণার মাধ্যমে নওগাঁ শহর থেকে তাঁর একমাত্র উপার্জনের ভ্যানটি চুরি হয়ে যায়। অবশেষে জেলা পুলিশের বিশেষ উদ্যোগ ও এআই-সংযুক্ত ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নাটোর থেকে সেই ভ্যান উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পিতা ও পুত্রকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ২৬ অক্টোবর ভুক্তভোগী বাহাদুর (৫০), পিতা মৃত জফির, সাং-রাজাপুর, থানা-রাণীনগর, জেলা-নওগাঁ, পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে উপস্থিত হয়ে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তাঁর দুর্ভোগের কথা জানান। তিনি পুলিশ সুপারকে বলেন, ভ্যানটিই তাঁর জীবিকা নির্বাহের একমাত্র সম্বল। সেটি চুরি হয়ে যাওয়ায় পরিবার নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন তিনি। বাহাদুরের কষ্টের কথা শুনে পুলিশ সুপার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন। এ ঘটনায় নওগাঁ সদর থানায় মামলা রুজু করে চোর শনাক্ত, আসামিদের গ্রেপ্তার এবং চুরি হওয়া ভ্যান উদ্ধারে জেলা গোয়েন্দা শাখাকে বিশেষ নির্দেশনা দেন। পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তদন্তে নামে। নওগাঁ জেলা পুলিশের স্থাপিত ডিজিটাল সার্ভিলেন্স ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা এবং বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রযুক্তির সহায়তায় চুরির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ অক্টোবর নওগাঁ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ নাটোর সদর ও নলডাঙ্গা থানা এলাকায় অভিযান চালায়। অভিযানে চুরির সঙ্গে সম্পৃক্ততার অভিযোগে সালাম (৪৮), পিতা আব্দুল হক, সাং-রঘুনাথপুর নর্দগ্রাম, থানা-কালীগঞ্জ, জেলা-ঝিনাইদহ এবং তাঁর ছেলে নয়নকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় প্রধান আসামি সালামের হেফাজত থেকে চুরি হওয়া ভ্যানটি উদ্ধার করা হয়। ভ্যান ফিরে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন ভ্যানচালক বাহাদুর। এখনো তাঁর ভ্যান কেনার কিস্তি পরিশোধ বাকি রয়েছে। দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর জীবিকার একমাত্র অবলম্বন ফিরে পেয়ে তিনি পুলিশ সুপারের সামনে আনন্দের সঙ্গে ভ্যান চালিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন। পুলিশের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা প্রকাশ করতে ফুল নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়েও হাজির হন বাহাদুর। পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানিয়ে আবেগাপ্লুত কণ্ঠে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। একটি ভ্যান উদ্ধার শুধু চুরির মামলার সমাধান নয়, বরং একজন অসহায় মানুষের জীবিকার অবলম্বন ফিরিয়ে দেওয়ার ঘটনাও। পুলিশের এ উদ্যোগে বাহাদুরের পরিবারে ফিরেছে স্বস্তি ও আনন্দ।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply