
পলিথিন ব্যাগের ব্যবহার নিষিদ্ধে আইন রয়েছে, রয়েছে সরকারি নির্দেশনাও। কিন্তু বাস্তবে তার প্রয়োগ নেই বললেই চলে। দিনাজপুরের ১৩টি উপজেলার হাটবাজার থেকে শুরু করে ছোট-বড় মুদি দোকান—সর্বত্র অবাধে ব্যবহৃত হচ্ছে নিষিদ্ধ পলিথিন ব্যাগ। এতে বাড়ছে পরিবেশদূষণ, হুমকির মুখে পড়ছে জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য। জেলার সদরসহ ১৩টি উপজেলার হাটবাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ দোকানেই পণ্য বিক্রির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পলিথিন ব্যাগ। বিশেষ করে হাতলবিহীন সাদা পলিথিনের ব্যবহার বেশি। ক্রেতাদের হাতে পণ্য তুলে দিতে দোকানিরা এসব ব্যাগ ব্যবহার করছেন নিয়মিত।ব্যবসায়ীদের অনেকের দাবি, পলিথিনের বিকল্প পরিবেশবান্ধব ব্যাগ সহজলভ্য না হওয়ায় তাঁরা বিপাকে পড়ছেন। পলিথিন ছাড়া পণ্য বিক্রি করলে ক্রেতাদের অসন্তুষ্টি ও বিক্রি কমে যাওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। ফলে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও তাঁরা আবার পলিথিনের ওপর নির্ভর করছেন। তবে অধিকাংশ দোকানে পরিবেশবান্ধব বিকল্প ব্যাগের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা দেখা যায় না। অন্যদিকে, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ বন্ধে কার্যকর অভিযান না থাকায় অসাধু ব্যবসায়ীরা সুযোগ নিচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা চালু থাকায় বাজারে এসব ব্যাগের সরবরাহ অব্যাহত রয়েছে। শুধু ব্যবহার বন্ধের উদ্যোগ নয়, উৎপাদন ও সরবরাহের উৎস বন্ধেও কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। পলিথিন ব্যবহারের কারণে দিনাজপুরের বিভিন্ন জলাশয়, নালা-নর্দমা ও রাস্তাঘাটে বর্জ্য জমে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। অপচনশীল এসব ব্যাগ দীর্ঘদিন পরিবেশে থেকে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে এবং জলাশয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করছে। এ বিষয়ে পরিবেশবাদী ডা. রেজাউল ইসলাম বলেন, অবৈধ পলিথিন উৎপাদন বন্ধ এবং পরিবেশ রক্ষায় পাটজাত ও অন্যান্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন। পলিথিন পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে। তাই উৎপাদন, বাজারজাতকরণ ও ব্যবহার বন্ধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। পরিবেশ সচেতন মহল, ব্যবসায়ী ও পরিবেশবাদীরা মনে করছেন, শুধু আইন প্রণয়ন করলেই হবে না, এর যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। অবৈধ পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানা বন্ধ, সরবরাহকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং হাটবাজারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পাশাপাশি পাটের ব্যাগসহ পরিবেশবান্ধব বিকল্প সহজলভ্য করতে হবে। দিনাজপুরের পরিবেশ রক্ষায় নিষিদ্ধ পলিথিনের উৎপাদন, বিপণন ও ব্যবহার বন্ধে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সচেতন মহল।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply