1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. wpsvc_6eb0338d2040@wordpress-svc.internal : wpsvc_6eb0338d2040 :
  3. admin@cnbtvbd.com : admin :
November 7, 2026, 9:11 am

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা বিদ্যালয়ে স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ ও ভর্তি অনিয়মের অভিযোগ, আটক অফিস সহায়ক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ২৯, ২০২৬
  • 54 Time View

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে আরও নানা অনিয়মের তথ্য সামনে এসেছে। প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের বিরুদ্ধে। এসব অভিযোগের পর গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাতে তাঁকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত এখনো চলমান। প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের তদন্তের মধ্যেই নিয়োগ ও ভর্তি কার্যক্রমে অনিয়মের নতুন তথ্য সামনে আসায় বিদ্যালয়টির প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রশ্নপত্রের নিরাপত্তা নিয়ে বিতর্কের পাশাপাশি নিয়োগ ও ভর্তি প্রক্রিয়ায় জালিয়াতির অভিযোগ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। গত ২৬ অক্টোবর এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেন জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকিকে প্রধান করে গঠিত কমিটিকে ঘটনার বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিটির প্রধান বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক মো. শাহজামালের ব্যক্তিগত কম্পিউটার জব্দ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য নিয়ে যান। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, কম্পিউটারে সংরক্ষিত বিভিন্ন নথি ও তথ্য যাচাই করতে গিয়ে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগের বাইরেও নিয়োগ, শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যায়। বিদ্যালয় ও প্রশাসনসংশ্লিষ্ট সূত্রের অভিযোগ, শাহজামাল প্রাক্তন প্রধান শিক্ষকদের স্বাক্ষর জাল করে মাস্টার রোলে লোক নিয়োগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া অফিস সহায়ক পদে কর্মরত থাকলেও তিনি কম্পিউটার অপারেটর পদে বেতন তুলতেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, তাঁর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে মাস্টার রোলে নিয়োগসংক্রান্ত নথি পাওয়া গেছে। তবে এসব নথির ভিত্তিতে কতজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, কারা নিয়োগ পেয়েছেন, আর্থিক লেনদেনের পরিমাণ কত এবং কোন কোন ব্যক্তির স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে—এসব বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট তথ্য আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এদিকে, কম্পিউটারে শিক্ষার্থী ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনসংক্রান্ত তথ্যও পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। এসব তথ্যের সঙ্গে ভর্তি-বাণিজ্য বা অন্য কোনো অনিয়মের যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযোগগুলোর বিস্তারিত যাচাই করতে গত বুধবার রাত ১০টার দিকে বিদ্যালয়ে যান তদন্ত কমিটির প্রধান এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট নথিপত্র ও অভিযোগের বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করেন বলে জানা গেছে। পরে অফিস সহায়ক শাহজামালকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সূত্র জানায়, রাত গভীর হওয়া এবং প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রক্রিয়া সম্পন্ন না হওয়ায় ওই রাতেই তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক মামলা করা সম্ভব হয়নি। বৃহস্পতিবার সকালে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম বাদী হয়ে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার উদ্যোগ নেবেন বলে সূত্রটি জানিয়েছে। এ বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এ বি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকি বলেন, “বিস্তারিত জানার পর সব বলতে পারব। আপাতত অভিযুক্ত থানা হেফাজতে রয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে বিদ্যালয়ে জালিয়াতির নানা তথ্য পাওয়া গেছে।” তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় স্বাক্ষর জাল, নিয়োগ, ভর্তি ও শিফট পরিবর্তনে অনিয়মের অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ চিত্র এখনো স্পষ্ট হয়নি। তদন্ত শেষে এসব অভিযোগের প্রকৃত তথ্য জানা যাবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost