
কুষ্টিয়ায় অবস্থিত রবীন্দ্র মৈত্রী বিশ্ববিদ্যালয়কে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্য প্রচারের অভিযোগ তুলেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক সদস্য মোহাম্মদ জহরুল ইসলাম ওরফে জহরুল ইসলাম জহরের ব্যক্তিগত ফেসবুক পোস্টকে তার ব্যক্তিগত মতামত উল্লেখ করে এর সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো সম্পর্ক নেই বলে জানিয়েছে বর্তমান কর্তৃপক্ষ। এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানায়, ভর্তি কার্যক্রমের আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ভীতি সৃষ্টি, বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন এবং আর্থিক ক্ষতির চেষ্টা করা হচ্ছে বলে তারা মনে করছে। এ ঘটনায় জহরুল ইসলামের বিরুদ্ধে সাইবার মামলাসহ ফৌজদারি ও দেওয়ানি আদালতে মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ট্রাস্ট দলিল, বোর্ড অব ট্রাস্টিজের দায়িত্ব ও অধিকারসংক্রান্ত বিষয় ট্রাস্ট আইন, ১৮৬২ এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০১০ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এসব বিষয়ে কোনো বিরোধ থাকলে তা আইনগতভাবে নিষ্পত্তিযোগ্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের আর্থিক বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত অর্থ নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে যথাযথভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং এর পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব সংরক্ষণ করা হচ্ছে। আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে অডিট কার্যক্রমও প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ভাইস চ্যান্সেলর পদ শূন্য থাকায় শিক্ষার্থীদের সাময়িক সনদপত্র প্রদানের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রভিশনাল সার্টিফিকেট চূড়ান্ত ডিগ্রি নয়; বরং সংশ্লিষ্ট ডিগ্রি অর্জনের সাময়িক বৈধ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাই শিক্ষার্থীদের জরুরি প্রয়োজন মেটাতে ভাইস চ্যান্সেলরের অনুপস্থিতিতে পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকের মাধ্যমে সাময়িক সনদপত্র ইস্যু করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সাবেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও বোর্ড অব ট্রাস্টিজের প্রায় ১০ বছরের দায়িত্বকালে শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশিত সমাবর্তন আয়োজন এবং স্থায়ী ক্যাম্পাস নির্মাণে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি। বর্তমান কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়কে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এগিয়ে নেওয়ার কথা জানিয়েছে।শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকরিচ্যুতির বিষয়ে কর্তৃপক্ষের দাবি, কাউকে বিধিবহির্ভূতভাবে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ইউজিসির শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় যোগ্যতার ঘাটতি, দায়িত্বে অবহেলা, প্রশাসনিক অচলাবস্থা বা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নিয়োগে অনিয়ম বা আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ থাকলে যাচাই-বাছাই করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, গত ১ জুলাই ২০২৬ তারিখে সাবেক ভাইস চ্যান্সেলর মো. শাহজাহান আলীসহ জহরুল ইসলামের কয়েকজন অনুসারী বিশ্ববিদ্যালয়ে জোরপূর্বক প্রবেশ করেন। পরে শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিবাদের মুখে তারা চলে যান। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কুষ্টিয়া সদর থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানায় কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে ভাইস চ্যান্সেলর পদ শূন্য থাকায় সিন্ডিকেট, একাডেমিক কাউন্সিলসহ বিভিন্ন একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে কিছুটা প্রতিকূলতা সৃষ্টি হলেও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ ও শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই বর্তমান কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। দ্রুততম সময়ে সরকার কর্তৃক ভাইস চ্যান্সেলর নিয়োগের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানানো হয়। এ ছাড়া বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুল হক ইনুকে আজীবন চেয়ারম্যান হিসেবে বহাল রাখা এবং তার মৃত্যুর পর তার উত্তরাধিকারীকে চেয়ারম্যান করার বিধান নিয়ে বর্তমান বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যদের আপত্তির কথাও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে। ট্রাস্ট দলিল অনুযায়ী প্রতি তিন বছর পরপর ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচনের বিধান যথাযথভাবে অনুসরণ না করার বিষয়টিও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে বলে জানানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বলেছে, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ, শিক্ষা কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা, আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তারা প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply