
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) ডিভিশন ক্রিকেট দলের মালামাল বহনকারী কাভার্ড ভ্যান থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করেছে রাজশাহী জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। এ ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) ভোরে রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে একটি আইফোন ১৫ প্রো ম্যাক্স, ৩০০ মার্কিন ডলার, নগদ ৮ হাজার টাকা, একটি ম্যাসাজ বেড, একটি লাগেজ, চারটি প্লাস্টিকের বক্স, তালা ভাঙার সরঞ্জাম ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. মোজাম্মেল হক (৩২), মো. সোহান রহমান (২৩), মো. রুবেল আহমেদ (৩৮) ও মো. শাহাদাত হোসেন (৫২)। মোজাম্মেল হকের বাড়ি চারঘাট উপজেলার চামটা গ্রামে। অন্য তিনজন পুঠিয়া উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দা। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৩ অক্টোবর বিসিবির ডিভিশন ক্রিকেট দলের মালামাল নিয়ে একটি কাভার্ড ভ্যান ঢাকা থেকে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হয়। পরদিন ১৪ অক্টোবর ভোরে নাটোরের তেবাড়িয়া রেলগেট এলাকায় গাড়িটি ধীরগতিতে চলার সময় কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি এতে ওঠে। পরে ভোর আনুমানিক ৫টা ৫ মিনিটে নাটোর-রাজশাহী মহাসড়কের পুঠিয়া থানার তারাপুর মোড় এলাকায় চলন্ত কাভার্ড ভ্যানের তালা ভেঙে লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। পেছনে থাকা অন্য একটি গাড়ির চালক বিষয়টি কাভার্ড ভ্যানের চালককে জানান। পরে চালক গাড়ি থামিয়ে দরজার তালা ভাঙা ও দরজা খোলা দেখতে পান। ঘটনাটি গাড়ির মালিককে জানানোর পর চালক রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন। পরে মহানগরীর রাজপাড়া থানাধীন হোটেল গ্র্যান্ড রিভারভিউয়ে পৌঁছে মালামাল নামানোর সময় দেখা যায়, বিসিবির ক্রিকেট দলের মোট ৫৪টি লাগেজের মধ্যে ৪৬টি রয়েছে। বাকি আটটি লাগেজসহ বিভিন্ন মালামাল চুরি হয়েছে। এ ঘটনায় এস এম মেহেরব হাসান ১৪ অক্টোবর রাজপাড়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে রাজশাহী জেলা পুলিশ সুপার মো. মামুন অর রশিদের নির্দেশনা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে তদন্ত ও অভিযান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মাহাবুবুর রহমানের নেতৃত্বে এসআই (নিরস্ত্র) মো. মেহেদী হাসানসহ ডিবির একটি দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় পুঠিয়ার তারাপুর গ্রামে অভিযান চালায়। এ সময় মো. শাহাদাত হোসেনের বসতবাড়ি থেকে চুরি হওয়া মালামাল উদ্ধার করা হয় এবং চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে রাজশাহী জেলায় দুটি, টাঙ্গাইলে দুটি ও নাটোরে একটি মামলা রয়েছে। সোহান রহমান ও রুবেল আহমেদের বিরুদ্ধে পুঠিয়া থানায় একটি করে মামলা রয়েছে। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ১৫ অক্টোবর পুঠিয়া থানায় দণ্ডবিধির ৪৬১ ও ৩৭৯ ধারায় মামলা করা হয়েছে। মামলাটি পুঠিয়া থানার মামলা নম্বর ৭।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply