
নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বছরব্যাপী নজরুলবিষয়ক সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ও নানা কর্মসূচি আয়োজনের লক্ষ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় জেলা পরিষদের প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সারা বছর নজরুলচর্চা অব্যাহত রাখা এবং কবি কাজী নজরুল ইসলামের স্মৃতি, সাহিত্য ও আদর্শ নতুন প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে আলোচনা করা হয়। নজরুলের সাম্যবাদী চেতনা ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধকে ধারণ করে বছরব্যাপী কবিতা আবৃত্তি, গান, নৃত্য, নাটকসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়। সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, কবি নজরুলকে নিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তবে জেলা পরিষদ একটু ভিন্নভাবে অনুষ্ঠানটি আয়োজন করতে চায়। শুধু শিক্ষার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জেলার বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, প্রত্যন্ত গ্রামের বাসিন্দা, সাংস্কৃতিক সংগঠনের সদস্য এবং নজরুলপ্রেমীদের সম্পৃক্ত করে অনুষ্ঠান আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে চুয়াডাঙ্গায় নজরুলচর্চা অনেকটা কমে গেছে। ফলে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর কার্যক্রমও কিছুটা নিষ্ক্রিয় হয়ে পড়েছে। সংগঠনগুলো বর্তমানে পুরোপুরি প্রস্তুত না থাকলেও তাদের সময় দেওয়া হবে। মূল লক্ষ্য হচ্ছে সাংস্কৃতিক চর্চাকে পুনরুজ্জীবিত করা এবং সারা বছর তা অব্যাহত রাখা। জেলা পরিষদ প্রশাসক আরও বলেন, জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে শিল্পকলা একাডেমির মুক্তমঞ্চে টিনের ছাউনি করে দেওয়া হবে। এতে বৃষ্টি বা বৈরী আবহাওয়ার মধ্যেও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজন করা সম্ভব হবে এবং প্রতিটি অনুষ্ঠানে ডেকোরেটরের খরচ কমবে। পাশাপাশি সাউন্ড সিস্টেম, চেয়ারসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হবে। ভালো মানের ঢোল, তবলা ও অন্যান্য বাদ্যযন্ত্র দেওয়ার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হবে। তিনি বলেন, শিল্পী ও সংস্কৃতির বিষয়ে কোনো কমতি রাখা হবে না। শিল্পীদের প্রয়োজন অনুযায়ী সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে। তবে এর বিনিময়ে সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোকে সক্রিয় হয়ে সাংস্কৃতিক চর্চাকে এগিয়ে নিতে হবে। সভায় জেলার বিভিন্ন ছোট-বড় সাংস্কৃতিক সংগঠন, বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ও সাধারণ জনগণকে সম্পৃক্ত করে জেলা পরিষদের উদ্যোগে নজরুলবিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে তিনটি বিভাগ রাখার প্রস্তাব করা হয়—পেশাজীবী, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উন্মুক্ত বিভাগ। অনুষ্ঠানে হামদ-নাত, কীর্তন, নাটক, কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, সংগীত এবং নজরুল সম্পর্কে উপস্থিত বক্তৃতাসহ বিভিন্ন আয়োজন রাখার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অনুষ্ঠান সফলভাবে আয়োজন এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক প্রচারের লক্ষ্যে ‘নজরুল বর্ষ উদযাপন’ উপলক্ষে দুটি কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কমিটিতে জাসাস, সাহিত্য পরিষদ, অরিন্দম, শিক্ষক, শিল্পী, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলা হয়। সভায় আরও সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৩০ অক্টোবরের পর মূল অনুষ্ঠান আয়োজন করা হবে। এর আগে নিয়মিত নজরুলচর্চা ও প্রচারণা কার্যক্রম চালানো হবে। প্রচারণার অংশ হিসেবে চুয়াডাঙ্গা শহরে ২০টি বড় বিলবোর্ড এবং প্রতিটি উপজেলায় পাঁচটি করে বিলবোর্ড স্থাপনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানটি সফলভাবে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সভায় বিভিন্ন বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত গ্রহণ করা হয়।সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্র, সহকারী প্রকৌশলী আনিছা খানম, সাহিত্য পরিষদের সহসভাপতি সরদার আলী হোসেন, চুয়াডাঙ্গা প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সময়ের সমীকরণের প্রধান সম্পাদক নাজমুল হক স্বপন, জেলা জাসাসের সভাপতি শহিদুল হক বিশ্বাস, সাধারণ সম্পাদক সেলিমুল হাবিব সেলিম, জেলা ছাত্র দলের সাধারণ সম্পাদক মোমিন মাছিতা, জেলা কালচারাল অফিসার সাইফুল ইসলাম মিলন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড. মুন্সি আবু সাইফ, ভিজে সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জেসমিন আরা খাতুনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের নেতৃবৃন্দ।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply