
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের পর এক প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনার প্রেক্ষাপটে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারসহ দুটি বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন। অভিযানে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটিকে মোট ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও অনিয়ম সংশোধন না করা পর্যন্ত উভয় প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেলে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। সম্প্রতি ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের প্রায় ১৮ ঘণ্টা পর ১৯ বছর বয়সী এক প্রসূতির মৃত্যু হয়। এ ঘটনা ও প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ওঠা বিভিন্ন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ যৌথভাবে অভিযান চালায়। বিকেল ৫টার দিকে আলমডাঙ্গা পৌর শহরের আনন্দধাম সড়কে অবস্থিত ফিরোজা ক্লিনিক অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় সরকারি বিধি অনুযায়ী চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রোগী নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্রের ঘাটতি পাওয়া যায়। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসক ডা. নজরুল ইসলামকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১৩(২) ধারায় ৫ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। দুই ধারায় মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ ও নথিপত্রের ঘাটতি দূর না করা পর্যন্ত ক্লিনিকটির কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।পরে শহরের কলেজপাড়ায় অবস্থিত লোকমান হোসেন প্রাইভেট হাসপাতালে অভিযান চালানো হয়। সেখানে চিকিৎসক ও নার্সের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা, পরিবেশগত ছাড়পত্র এবং রোগী নিবন্ধনসংক্রান্ত নথিপত্রের ঘাটতি পাওয়া যায়। এ ছাড়া হাসপাতালের পরিবেশ স্বাস্থ্যসম্মত নয় বলেও দেখতে পান অভিযান পরিচালনাকারীরা। এসব অনিয়মের দায়ে প্রতিষ্ঠানটিকে মেডিকেল প্র্যাকটিস এবং বেসরকারি ক্লিনিক ও ল্যাবরেটরি (নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাদেশ, ১৯৮২-এর ১৩(২) ধারায় ৫ হাজার টাকা এবং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৪৫ ধারা লঙ্ঘনের দায়ে ৩০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। প্রতিষ্ঠানটি থেকে মোট ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। প্রয়োজনীয় শর্ত পূরণ না করা পর্যন্ত হাসপাতালটির কার্যক্রমও বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়।অভিযানে নেতৃত্ব দেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীনূর আক্তার। ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় সহযোগিতা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট এ.এস.এম. আব্দুর রউফ শিবলু। স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সবুজ রানা এবং আলমডাঙ্গা থানা পুলিশের একটি দল অভিযানে অংশ নেয়। অভিযান শেষে শহরের আশপাশের আরও কয়েকটি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অনুমোদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাই করা হয়। সংশ্লিষ্টদের মতে, বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনীয় জনবল, বৈধ অনুমোদন, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং সরকারি বিধিবিধান প্রতিপালন নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply