
চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদায় চোরাচালানবিরোধী অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় প্রসাধনী ও ক্রিম জব্দ করেছে পুলিশ। এ সময় পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জব্দ করা পণ্য ও যানবাহনের আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪০ টাকা। বুধবার (২১ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার কার্পাসডাঙ্গা গ্রামে পুলিশ ক্যাম্পের সামনে আব্দুল আহাদ ট্রেডার্স নামের একটি দোকানের সামনে পাকা রাস্তা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন দর্শনা থানার সদাবরী পশ্চিমপাড়ার মৃত আবুল দফাদারের ছেলে মো. জহিরুল হক (৪০) এবং সদাবরী মাদ্রাসাপাড়ার মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. আসানুর হক (৩৫)। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার মেহেদী শাহরিয়ারের দিকনির্দেশনায় এবং দামুড়হুদা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মেসবাহ্ উদ্দিনের তত্ত্বাবধানে চোরাচালান প্রতিরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় কার্পাসডাঙ্গা পুলিশ ক্যাম্পের উপপরিদর্শক (এসআই) জুম্মান খাঁন সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ওই দুজনের হেফাজতে থাকা ভারতীয় প্রসাধনী ও ক্রিম উদ্ধার করেন। পুলিশের জব্দ তালিকা অনুযায়ী, উদ্ধার করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে ১০০ গ্রাম ওজনের ১৭৬ পিস পন্ডস ব্রাইট বিউটি ফেসওয়াশ, যার আনুমানিক মূল্য ৯১ হাজার ৫২০ টাকা। এ ছাড়া ২৪ দশমিক ৬ গ্রাম ওজনের ১ হাজার ১০৩ পিস নিবিয়া সফট ক্রিম জব্দ করা হয়েছে, যার মূল্য ১ লাখ ৫৪ হাজার ৪২০ টাকা। এ ছাড়া ৩০ গ্রাম ওজনের ক্লোবেটাসল প্রোপিওনেট ও জেন্টামাইসিন সালফেটযুক্ত ৬৮০ পিস ক্রিম জব্দ করা হয়। এসব ক্রিমের আনুমানিক মূল্য ৬৮ হাজার টাকা। পণ্য পরিবহনে ব্যবহৃত দুটি পুরোনো কিন্তু সচল ব্যাটারিচালিত পাখিভ্যানও জব্দ করা হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে জব্দ করা প্রসাধনী, ক্রিম ও পাখিভ্যানের মোট আনুমানিক মূল্য ৪ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪০ টাকা। উদ্ধার করা আলামতের জব্দ তালিকা প্রস্তুত করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার দুজনের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মাদকদ্রব্য উদ্ধার, চোরাচালান প্রতিরোধ, অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার এবং বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে নিয়মিত অভিযান চলছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ ও চোরাচালান দমনে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply