
রাজশাহীতে জাল টাকার নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন আত্মসাতের ঘটনায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের (আরএমপি) বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তি ও সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে তাঁদের শনাক্ত করা হয়। পরে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহী ও বগুড়া থেকে প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাৎ করা দুটি স্বর্ণের চেইন উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবার (১৪ অক্টোবর) আরএমপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার এলাকার ‘আশা জুয়েলারি স্টোরে’ এক ব্যক্তি নিজেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সৈনিক পরিচয় দিয়ে স্বর্ণের গহনা কিনতে যান। মেজর স্যারের মেয়ের বিয়ের জন্য গহনা কেনার কথা বলে তিনি ৭০০ টাকায় একটি নাকফুল কেনেন। পাশাপাশি আট আনা ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন পরে টাকা দিয়ে নিয়ে যাওয়ার কথা জানান। এরপর গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল পৌনে ১১টার দিকে ওই ব্যক্তি চেইনটি নিতে দোকানে আসেন। চেইনটি দোকানে না থাকায় পাশের বিশ্বনাথের দোকান থেকে ২২ ক্যারেটের আট আনা এক পয়েন্ট ওজনের একটি স্বর্ণের চেইন এনে তাঁকে দেওয়া হয়। চেইনটির তৎকালীন বাজারমূল্য ছিল ১ লাখ ১৫ হাজার টাকা। এ সময় ওই ব্যক্তি ১ হাজার টাকা মূল্যমানের ১১৫টি নতুন নোট দেন। দোকানমালিকের বাবা নোটগুলো যাচাই করতে পাশের দোকানে গেলে সেগুলো জাল বলে শনাক্ত হয়। পরে তিনি ফিরে এসে ওই ব্যক্তিকে আর খুঁজে পাননি। এভাবে জাল নোট দিয়ে স্বর্ণের চেইন নিয়ে প্রতারণা করেন তিনি। ঘটনার পর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবির পিপিএমের নির্দেশনায় তদন্ত শুরু করে বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ। আরএমপির সিসিটিভি টিমের সহায়তায় বিভিন্ন ফুটেজ বিশ্লেষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অভিযুক্তকে শনাক্ত করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ অক্টোবর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার খিলক্ষেত থানাধীন জামতলা মোড় এলাকায় এসআরবি-১, উত্তরা, ঢাকার সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে মো. রিয়াজুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি ঝালকাঠি সদর থানার উত্তর মারাবাটি গ্রামের হারুন অর রশিদের ছেলে। বর্তমানে তিনি ঢাকার খিলক্ষেতের টানপাড়া এলাকায় বসবাস করতেন। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিয়াজুল স্বীকার করেন, প্রতারণার মাধ্যমে নেওয়া চেইনটি ঢাকার খিলক্ষেতের জামতলা মোড় এলাকার ‘মা জুয়েলার্স’-এর মালিক মো. রোমানের কাছে বিক্রি করেন। তাঁর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই দিন বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ওই জুয়েলার্সে অভিযান চালিয়ে রোমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় রাজশাহীর আশা জুয়েলারি স্টোর থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটি উদ্ধার করা হয়। এদিকে, পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, একই কৌশলে গত ৬ অক্টোবর বগুড়ার নিউ মার্কেটের স্বর্ণপট্টিতে অবস্থিত ‘তামান্না জুয়েলার্স’ থেকেও একটি স্বর্ণের চেইন আত্মসাৎ করেন রিয়াজুল। চেইনটির মূল্য ছিল ১ লাখ ২২ হাজার টাকা। এ ক্ষেত্রেও জাল নোট ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধের অভিযোগ রয়েছে। বোয়ালিয়া মডেল থানা পুলিশ বগুড়া থেকে আত্মসাৎ করা চেইনটিও উদ্ধার করেছে। অভিযানকালে রিয়াজুলের কাছ থেকে একটি মোবাইল ফোন ও নগদ ১৪ হাজার ৯৭২ টাকা জব্দ করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply