
চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার হিজলগাড়ী বাজারে প্রায় ৬ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন গ্রোথ সেন্টার মার্কেটের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়রা নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। তাদের দাবি, অনুমোদিত নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী মানসম্মত সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। স্থানীয়দের ভাষ্য, পশ্চিমাঞ্চলীয় অর্থনৈতিক করিডোর ও আঞ্চলিক উন্নয়ন কর্মসূচি (উইকেয়ার) আওতায় হিজলগাড়ী গ্রোথ সেন্টার মার্কেটে বহুমুখী শেড, মাছের বাজার শেড, মাংস ও পোলট্রি শেডসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণের কথা রয়েছে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) অধীনে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। তবে নির্মাণকাজে ব্যবহৃত ইট, বালু, সিমেন্টসহ বিভিন্ন উপকরণের মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাজারের ব্যবসায়ী ও স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের অভিযোগ, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিডিউলে নির্ধারিত মান বজায় না রেখে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করছে। এতে ভবিষ্যতে নির্মিত স্থাপনার স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা জানান, সরকারি অর্থে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা হলে ভবিষ্যতে ব্যবসায়ী, ক্রেতা ও সাধারণ মানুষের জন্য ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কাজ পুনরায় শুরুর আগে সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও এলজিইডি কর্তৃপক্ষকে সরেজমিনে পরিদর্শন করে নির্মাণসামগ্রীর মান পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন তারা। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে সম্পন্ন কাজও কারিগরি বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে যাচাইয়ের দাবি তাদের। হিজলগাড়ী বাজার আহ্বায়ক কমিটির সভাপতি আমিরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, “সরকারের টাকা মানে আমাদের টাকা। জনগণের টাকায় নিম্নমানের কাজ হতে পারে না। কাজে যে ইট, সিমেন্ট ও বালু ব্যবহার করা হচ্ছে, তা খুবই নিম্নমানের। আমাদের দাবি, সিডিউল অনুযায়ী কাজ করতে হবে।” এ বিষয়ে কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাকাউল্লাহ এ্যান্ড ব্রাদার্সের স্বত্বাধিকারী জাকাউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রকৌশলী সাব্বির উল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে কাজ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। সিডিউলে যেভাবে মালামালের বর্ণনা দেওয়া আছে, তার বাইরে কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সিডিউল অনুযায়ীই কাজ করতে হবে।” স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত, নির্মাণসামগ্রীর মান যাচাই এবং অনুমোদিত নকশা ও সিডিউল অনুযায়ী কাজ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply