1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. wpsvc_6eb0338d2040@wordpress-svc.internal : wpsvc_6eb0338d2040 :
  3. admin@cnbtvbd.com : admin :
October 27, 2026, 2:45 am

লোকসানের শঙ্কা নিয়েও আগাম আলু চাষে ব্যস্ত কৃষকেরা

ওয়াহেদুর রহমান, দিনাজপুর প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬
  • 16 Time View

দিনাজপুরের চিরিরবন্দর উপজেলায় আগাম জাতের আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন তাঁরা। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারদরের ওপর নির্ভর করছে তাঁদের লাভ-লোকসানের হিসাব। উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে চিরিরবন্দরের ১২টি ইউনিয়নে ২ হাজার ৮৮০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬৯ হাজার ৬৬৪ মেট্রিক টন। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৯৫০ হেক্টর, উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১৭ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। এ পর্যন্ত আগাম আলু রোপণ করা হয়েছে ২০৫ হেক্টর জমিতে। উপজেলার ৪ নম্বর ইসবপুর, ৭ নম্বর আউলিয়াপুকুর ও ৮ নম্বর সাইতারা ইউনিয়নে আগাম আলুর চাষ বেশি হয়। এসব এলাকায় এস্টারিক্স, গ্রানুলা, রোমানা ও বারি-৭ জাতের আলু চাষ করছেন কৃষকেরা। আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের খুলনাডাঙ্গা গ্রামের কৃষক কাশিদেব রায় এবার তিন একর জমিতে আগাম এস্টারিক্স জাতের আলু রোপণ করেছেন। এর মধ্যে দেড় একরে লোকাল আলু এবং বাকি দেড় একরে বীজ উৎপাদনের জন্য আলু চাষ করছেন তিনি। কাশিদেব রায় বলেন, “আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার আশা থাকে। তবে অনেক কিছুই বাজার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে। চাষের খরচ দিন দিন বাড়ছে। আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।” তিনি জানান, লোকাল আলু ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে বাজারজাত করা যায়। তবে বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করা আলু তুলতে প্রায় ৯০ দিন সময় লাগে। বড়গ্রাম এলাকার কৃষক আবুল হোসেন বলেন, আগাম আলু চাষে জমি তৈরি, বীজ, সার ও কীটনাশকে প্রচুর টাকা খরচ হয়। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো থাকলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাজারদর কমে গেলে লোকসান গুনতে হবে। এরপরও লাভের আশায় পাঁচ একর জমিতে আগাম এস্টারিক্স জাতের আলু চাষের প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি। সাইতারা ইউনিয়নের পশ্চিম সাইতারা গ্রামের কৃষক নাজমুল হক ১১ একর জমিতে আগাম গ্রানুলা ও সানসাইন জাতের আলু রোপণ করেছেন। একই গ্রামের শাহাদাত হোসেন সোহাগ সাত একর জমিতে রোমানা জাতের আলু এবং নিরঞ্জন রায় তিন একর জমিতে গ্রানুলা জাতের আলু চাষ করছেন। সাইতারা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিনহাজুল হক নবাব জানান, তাঁর ইউনিয়নে প্রায় ৩০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। আগাম আলুর দাম তুলনামূলক বেশি পাওয়ার সম্ভাবনা থাকায় কৃষকদের এ চাষে উৎসাহিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ ও উচ্চমূল্যের ফসল উৎপাদনে তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়েও কাজ করছেন তাঁরা। আগাম আলু চাষের বিভিন্ন পর্যায়ে কৃষকদের পরামর্শ ও সহযোগিতা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জোহরা সুলতানা জানান, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ৯৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২৫০ হেক্টর জমিতে আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে বলে তিনি জানান। ৫৫ থেকে ৬০ দিনের মধ্যে আগাম আলু উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। এ কারণে কৃষকেরা মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার ভালো ফলনের ব্যাপারে তিনি আশাবাদী। তিনি আরও জানান, কৃষকদের সুবিধার্থে সার বিতরণ কার্ড তৈরি করা হয়েছে। ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকের জমির পরিমাণ অনুযায়ী কার্ডে সারের চাহিদা লিখে দিচ্ছেন। ওই কার্ড নিয়ে ডিলারের কাছে গেলে কৃষকেরা সার সংগ্রহ করতে পারছেন।সব মিলিয়ে, আগাম আলু চাষ ঘিরে চিরিরবন্দরের কৃষকদের মধ্যে আশার পাশাপাশি উদ্বেগও রয়েছে। উৎপাদন খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ন্যায্যমূল্য পাওয়া গেলে তাঁদের পরিশ্রম সার্থক হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost