
জয়ের পথেই হাঁটছিল বাংলাদেশ। কিন্তু সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেলো ১৮তম ওভারে। রিতু মনির এক ওভারেই ১৬ রান নিয়ে শ্রীলঙ্কাকে আশা দেখালেন হার্শিতা সামারাবিক্রমা। যতটুকু আশা ছিল বাংলাদেশের, সেটাও শেষ করলেন ১৯তম ওভারের শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে। তিনি একা হাতেই বাংলাদেশের স্বপ্ন ভঙ্গ করলেন। শ্রীলঙ্কাকে নিয়ে গেলেন নারী এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ নারী এশিয়া কাপের ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান করে বাংলাদেশ নারী দল। জবাব দিতে নেমে ১৯.২ ওভারে ৪ উইকেট হাতে রেখেই জয় তুলে নেয় শ্রীলঙ্কা।বাংলাদেশকে হারিয়ে টানা তিন জয়ে ‘বি’ গ্রুপ থেকে চ্যাম্পিয়ন হয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করল শ্রীলঙ্কা। ৩ ম্যাচ খেলে ৩ জয়ে তাদের পয়েন্ট ৬। অন্যদিকে, লঙ্কানদের কাছে হেরে সেমিফাইনালের অপেক্ষা বাড়াল বাংলাদেশ। ২ ম্যাচ খেলে এক জয়ে ২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দ্বিতীয় স্থানে আছে বাংলাদেশ। সেমিফাইনালে যেতে হলে শেষ ম্যাচে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে জয় অথবা ড্র করতে হবে। ব্যাটিংটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। সুযোগ ছিল স্কোরটাকে আরও বড় করার। তবুও লড়াই জমিয়ে তুলেছিলেন বোলাররা। বিশেষ করে মারুফা আক্তার। দুর্দান্ত বোলিংয়ে বাংলাদেশকে আশা দেখিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটি আর বাস্তবতায় রূপ নেয়নি। স্বল্প রানের পুঁজি নিয়ে লড়াই করতে নেমে শুরুতেই বাংলাদেশকে উইকেট এনে দেন মারুফা। প্রথম ওভারেই ফেরান শ্রীলঙ্কার তারকা ওপেনার চামারি আতাপাত্তুকে। ২ বলে ১ রান করে ফেরেন লঙ্কান অধিনায়ক। নিজের পরের ওভারে এসে ফেরান আরেক ওপেনার ইমেশা দুলহানিকে। ১১ বলে ১২ রান করে বোল্ড হয়ে ফেরেন তিনি। এরপর দ্রুতই আরও দুই উইকেট তুলে নেন স্পিনার সুলতানা খাতুন আর পেসার রিতু মনি। পাওয়ার-প্লের শেষ বলে ১৪ বলে ৯ রান করা সানজানা কাভিন্দিকে ফেরান সুলতানা। আর নবম ওভারের ভিশমি গুনারত্নকে (১৬ বলে ৯) ফেরান রিতু। পরের ওভারেই ফাহিমা খাতুনের দুর্দান্ত থ্রোতে রানআউট হয়ে ফেরেন কাভিশা দিলহারি। ৪৪ রানে শ্রীলঙ্কার ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ম্যাচে একক আধিপত্য তৈরি করে বাংলাদেশ। জয়টা তখন কেবলই সময়ের ব্যাপার বলে মনে হচ্ছিল। তবে ম্যাচে নাটকীয়তার তখনো অনেক বাকি ছিল। এরপর হার্শিতা আর নিলাকশিখা সিলভা মিলে ৩৮ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশের অপেক্ষা বাড়ান। ১৭তম ওভারে ১৮ বলে ২৩ রান করা নিলাকশিখাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আবারও ম্যাচে ফেরান মারুফা। কিন্তু পরের ওভারেই ম্যাচের সব হিসাব-নিকাশ বদলে যায়। রিতু মনির এক ওভারেই সমান একটি করে চার আর ছক্কায় ১৬ রান নেন হার্শিতা। তখনো বাংলাদেশ কিছুটা ম্যাচে ছিল। ১৯তম ওভারে বোলিংয়ে আসেন নাহিদা আক্তার। প্রথম পাঁচটি বল ভালোই করেন তিনি। কিন্তু শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেন হার্শিতা। শেষ ওভারে জয়ের জন্য ২ রান প্রয়োজন ছিল শ্রীলঙ্কার। সোবহানা মোস্তারির প্রথম দুই বল থেকেই সেটি নিয়ে নেয় শ্রীলঙ্কা। জয় তুলে নেয় ৪ উইকেটে। বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন মারুফা। একটি করে উইকেট নেন রিতু মনি আর সুলতানা খাতুন। এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে কিছুটা আক্মেণাত্মক শুরু করেছিলেন ওপেনার জুয়াইরিয়া ফেরদৌস। দিলারা আক্তারকে সঙ্গে নিয়ে ৪.৫ ওভারে ৩১ রানের জুটি গড়েছিলেন। এরপর বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন তিনি। ফেরার ১০ বলে ১৪ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপর খুব বেশি সময় টিকতে পারেননি আরেক ওপেনার দিলারাও। শুরুর দিকে কিছুটা ধীরগতির ব্যাটিং করা এই টাইগ্রেস ওপেনারও বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়েই ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ২৬ বলে ২৬ রান করেন তিনি। চার নম্বরে নেমে দায়িত্ব নিতে পারেননি ওপেনার নিগার সুলতানা জ্যোতিও (৯ বলে ৪)। দ্রুতই তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। সেখান থেকে জুটি গড়ে বাংলাদেশকে আশা দেখাচ্ছিলেন সোবহানা মোস্তারি আর স্বর্ণা আক্তার। ৪১ রানের জুটি গড়েছিলেন তারা। তবে আশার পূর্ণ বাস্তবায়ন করতে পারেননি থিতু হওয়া এই দুই ব্যাটার। ১৭তম ওভারে মোস্তারি আর স্বর্ণাকে ফিরিয়ে আবারও বাংলাদেশকে চেপে ধরেন চামুদি প্রাবোদা। ওভারের তৃতীয় বলে বড় শট খেলতে উইকেট ছেড়ে বেড়িয়ে এসেছিলেন মোস্তারি। তিনি মিস করলে বল ধরে স্টাম্প ভেঙে দেন উইকেটরক্ষক। ৪১ বলে ৩৪ রান করে আউট হন তিনি। ওভারের পঞ্চম বলে ফেরেন স্বর্ণা। সোজা বোলারের হাতেই ক্যাচ তুলে দেন তিনি। ১৪ বলে ৯ রান আসে তার ব্যাট থেকে। এরপরে ফাহিমা খাতুন (১৩ বলে ১৪) ছাড়া আর কেউ দায়িত্ব নিতে পারেনি। ফলে বাংলাদেশ থামে ১১৪ রান করেই। শ্রীলঙ্কার হয়ে সর্বোচ্চ ৩টি উইকেট শিকার করেন চামুদি। ২টি উইকেট নেন সুগানদিকা কুমারি। আর একটি করে উইকেট যায় চামারি আতাপাত্তু আর কাভিশা দিলহারির ঝুলিতে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply