
ইজিবাইক শ্রমিকদের সঙ্গে সংঘর্ষে আন্তঃজেলা বাস শ্রমিকদের ওপর হামলা, মারধর এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে চুয়াডাঙ্গা থেকে সব রুটে বাস চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আজ শনিবার থেকে কুষ্টিয়া, মেহেরপুর, দর্শনা, জীবননগর, ঝিনাইদহ ও হাটবোয়ালিয়াসহ জেলার অভ্যন্তরীণ বিভিন্ন রুটে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকবে। দাবি পূরণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়া হলে আগামী ৩১ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গা-ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে চলাচলকারী দূরপাল্লার বাসও বন্ধ করে দেয়ার ঘোষণা দিয়েছেন পরিবহন শ্রমিক ও মালিক সমিতির নেতারা। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত চুয়াডাঙ্গা সদর থানাধীন আলী হোসেন মার্কেটের তৃতীয় তলায় চুয়াডাঙ্গা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাস মালিক সমিতির নেতাদের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন চুয়াডাঙ্গা আন্তঃজেলা বাস-মিনিবাস মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল কালাম আজাদ। স্থানীয় ও পরিবহন সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট বিকেল ৫টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের দৌলতদিয়াড় বাসস্ট্যান্ড মোড় এলাকায় ইজিবাইক চালক ও আন্তঃজেলা বাস শ্রমিকদের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়। অভিযোগ রয়েছে, একটি ইজিবাইক নিয়মবহির্ভূতভাবে শহরে প্রবেশের চেষ্টা করলে সেখানে দায়িত্বরত পুলিশ ও বাস শ্রমিক ইউনিয়নের প্রতিনিধিরা তাকে বাধা দেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওই ইজিবাইক চালক তাঁর সহযোগীদের নিয়ে আলোকদিয়া এলাকায় জড়ো হন। পরে চুয়াডাঙ্গা-মেহেরপুর আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী একটি বাস আটকে চালক ও সুপারভাইজারকে মারধর ও লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি বাসে হামলা চালানো এবং তাদের জিম্মি করে রাখার অভিযোগ ওঠে। খবর পেয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের চালক ও সুপারভাইজারকে উদ্ধার করে। এর প্রতিবাদে এবং জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বাস-মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নেতাকর্মী ও সাধারণ শ্রমিকরা দৌলতদিয়াড় এলাকায় সড়কে বাস আড়াআড়ি রেখে অবরোধ করেন। পরে চুয়াডাঙ্গার পুলিশ সুপার ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে ন্যায়বিচারের আশ্বাস দেয়া হলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়। তবে শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও অসন্তোষ অব্যাহত থাকে। পরিবহন শ্রমিকদের দাবি, হামলার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। একই সঙ্গে বাসে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে ইজিবাইক ও বাস শ্রমিকদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের স্থায়ী সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন ধরনের ইজিবাইকের জন্য নির্ধারিত রং ব্যবহারের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা কার্যকর করা এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধের দাবি জানিয়েছেন পরিবহন শ্রমিকরা। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব দাবি পূরণে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া না হলে ৩১ আগস্ট থেকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন রুটে চলাচলকারী সব দূরপাল্লার বাসও বন্ধ করে দেয়া হবে। শ্রমিক ও মালিক সমিতির নেতারা জানিয়েছেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা এবং সড়কে ইজিবাইকের অবৈধ চলাচল বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না আসা পর্যন্ত বাস চলাচল স্বাভাবিক করা হবে না। হঠাৎ করে বাস চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিভিন্ন বাস টার্মিনাল ও কাউন্টারে যাত্রীদের ভিড় দেখা গেছে। অনেকে গন্তব্যে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন, আবার কেউ কেউ অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে ইজিবাইক, মাহিন্দ্রা, সিএনজি ও অন্যান্য বিকল্প যানবাহনে যাতায়াত করছেন। বাস চলাচল বন্ধ থাকায় জেলার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগব্যবস্থায়ও এর প্রভাব পড়েছে। দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন সাধারণ যাত্রীরা। এদিকে, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও পরিবহন মালিক-শ্রমিকদের দাবির বিষয়ে আজ শনি বেলা সাড়ে ১১টায় চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার সামনে অবস্থিত চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিবহন মালিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply