
চুয়াডাঙ্গার ‘ফার্স্ট ক্যাপিটাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ’-এ ট্রাস্টি বোর্ডের আধিপত্য বিস্তার ও বৈধতা নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগে চরম রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট তৈরি হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ ঘোষণার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টি বোর্ডের একটি পক্ষ। সংবাদ সম্মেলনে বর্তমান প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে ধরে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়েছে।
এদিকে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাল্টা বিজ্ঞপ্তিতে আলিম উদ্দিন লস্করের নেতৃত্বাধীন কমিটিকে ‘অবৈধ’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছে। দুই পক্ষের এই মুখোমুখি অবস্থানে চরম অনিশ্চয়তা ও উদ্বেগে পড়েছেন সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের প্রধান ফটকের সামনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠাকালীন বোর্ড অব ট্রাস্টিজের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। তারা অভিযোগ করেন, প্রকৃত তথ্য গোপন করে একটি মহল জোরপূর্বক বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে সংবাদ সম্মেলনে দাবিকৃত ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান পুষ্টিবিদ মো. আলিম উদ্দিন লস্কর বলেন, “প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টের ধারাবাহিকতা, সম্পদ ও প্রশাসনিক বৈধতা রক্ষার স্বার্থেই আমরা দায়িত্ব পালন করছি। কিন্তু একটি পক্ষ আইন ও বিধি উপেক্ষা করে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার, আর্থিক অনিয়ম ও অনুমোদনহীন নিয়োগের মাধ্যমে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করছে।”
ট্রাস্টি বোর্ডের সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বিভিন্ন দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করে জানান, ২০১০ সালের ২০ ডিসেম্বর চুয়াডাঙ্গা পৌরসভা থেকে প্রত্যয়নপত্র, ২০১১ সালে ট্রাস্ট নিবন্ধন এবং ২০১২ সালের ১৪ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের মাধ্যমে ‘দি ফার্স্ট ক্যাপিটাল এডুকেশন, হেলথ অ্যান্ড এগ্রিকালচার ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট’-এর অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়টির যাত্রা শুরু হয়।
তিনি অভিযোগ করেন, প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান সোলায়মান হক জোয়ার্দ্দারের মৃত্যুর পর ২০১৪ সালে মূল উদ্যোক্তাদের বাদ দিয়ে একটি বেআইনি ট্রাস্ট গঠন করা হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ২০ জুন জয়েন্ট স্টকে নথির মাধ্যমে পুনরায় ট্রাস্টি বোর্ড পুনর্গঠন করা হয়, যার কোনো আইনি ভিত্তি নেই। সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, যোগ্যতা লঙ্ঘন করে এইচএসসি পাস ব্যক্তিকে সহকারী রেজিস্ট্রার করা, সংরক্ষিত ১ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআর অনুমোদন ছাড়া ভাঙা এবং শিক্ষার্থীদের থেকে আদায়কৃত অতিরিক্ত ফি ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে রাখার মাধ্যমে ব্যাপক আর্থিক অনিয়ম করা হয়েছে।
অন্যদিকে, একই দিন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মো. মোফাজ্জল হোসেন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে ২৩ জুলাই থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. নাফিউল ইসলাম জোয়ার্দ্দার স্বাক্ষরিত অপর এক বিজ্ঞপ্তিতে পাল্ট দাবি করে বলা হয়, ২২ জুলাই আলিম উদ্দিন লস্কর ও তার সমর্থকরা বিশ্ববিদ্যালয় দখলের চেষ্টা করলে জেলা প্রশাসন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সংগঠনের সহায়তায় তাদের অপসারণ করা হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে বৈধ ট্রাস্টি বোর্ডের অধীনে পরিচালিত হচ্ছে এবং কার্যক্রম মূলত সাত দিনের জন্য স্থগিত রাখা হয়েছে।
প্রতিষ্ঠাকালীন ট্রাস্টের পক্ষ থেকে পেশ করা তালিকায় আলিম উদ্দিন লস্কর, ডা. রাবেয়া খাতুন, মো. আব্দুর রাজ্জাকসহ অন্যান্যদের নাম উল্লেখ রয়েছে। অপরদিকে, প্রয়াত সোলাইমান হক জোয়ার্দ্দারের পরিবারকেন্দ্রিক ট্রাস্টি বোর্ডে রিয়াজুল ইসলাম জোয়ার্দ্দার, আক্তার জাহান জোয়ার্দ্দারসহ অন্যান্যদের নাম রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রিক দুই পক্ষের এই তীব্র মুখোমুখি অবস্থানে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতির নিরসনে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও ইউজিসির দ্রুত নিরপেক্ষ হস্তক্ষেপ কামনা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply