
পার্বত্য অঞ্চলের শান্তি, সম্প্রীতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে দলমত ও সম্প্রদায় নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী ও বান্দরবান আসনের সংসদ সদস্য সাচিংপ্রু জেরী। তিনি বলেন, সীমান্তবর্তী নাইক্ষ্যংছড়ির উন্নয়ন ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও সাধারণ জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নাইক্ষ্যংছড়িতে নিজের প্রথম সরকারি সফরে উপজেলা প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সঙ্গে পৃথক মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। দিনব্যাপী সফর শেষে সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি কক্সবাজারের উদ্দেশে নাইক্ষ্যংছড়ি ত্যাগ করেন। সফরের শুরুতে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক সভায় অংশ নেন পার্বত্য মন্ত্রী। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হাসানের সভাপতিত্বে সভায় উপজেলার সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সীমান্ত এলাকার বিভিন্ন সমস্যা, যোগাযোগব্যবস্থা, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্থানীয় জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় নাইক্ষ্যংছড়ি ব্যাটালিয়ন (১১ বিজিবি)-এর জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফয়জুল করিম, নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হকসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় উপজেলার উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন মন্ত্রী। পরে উপজেলা কমপ্লেক্সে আয়োজিত মৎস্য পোনা অবমুক্ত ও বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেন তিনি। এ সময় স্থানীয় মৎস্যসম্পদের উন্নয়ন, মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং মৎস্যচাষীদের উৎসাহিত করার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের পরামর্শ দেন। এরপর উপজেলা সদরের একটি বৌদ্ধ বিহারে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী ও ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন পার্বত্য মন্ত্রী। সেখানে পার্বত্য এলাকার শান্তি, সম্প্রীতি, ধর্মীয় সহাবস্থান ও স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। ধর্মীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময়কালে সাচিংপ্রু জেরী বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে সব ধর্ম ও সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সহযোগিতা থাকতে হবে। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে নিয়ে এলাকার উন্নয়নে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। পরে নাইক্ষ্যংছড়ি রেস্ট হাউস চত্বরে স্থানীয় বিএনপির উদ্যোগে পার্বত্য মন্ত্রীকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নাইক্ষ্যংছড়ির যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন, সীমান্ত এলাকার সমস্যা, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, পর্যটন, অবকাঠামো, আইনশৃঙ্খলা এবং স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন দাবি-দাওয়া গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে সংশ্লিষ্ট পর্যায়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রম সাধারণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। জেলা বিএনপির সদস্য নুরুল আলম কোম্পানির সভাপতিত্বে এবং নুরুল কাশেম ও সাইফুদ্দিন বাহাদুরের সঞ্চালনায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বান্দরবান জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাশৈ প্রু, মুজিবুর রশিদ, জাহাঙ্গীর আলম, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান ভূঁইয়া, জেলা মৎস্যজীবী দলের সভাপতি আবুল হাসেম, নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান তোফায়েল আহমেদ, সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন, উপজেলা শ্রমিক দলের আহ্বায়ক ইয়াহিয়া খান মামু, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান চৌধুরীসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply