
তালাকপ্রাপ্ত স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মারধর, হয়রানি, মিথ্যা মামলা ও সম্পদ সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করেছেন চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কোর্টপাড়ার বাসিন্দা মো. সালাহ উদ্দিন আহমেদ। এ ঘটনায় তিনি নিজে ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা চেয়ে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেছেন। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে সাংবাদিক সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন এসব অভিযোগ করেন। তাঁর সাবেক স্ত্রী আসামা আক্তার, তাঁর মা, দুই ভাই ও ভাবিসহ পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ তোলা হয়। লিখিত বক্তব্যে সালাহ উদ্দিন বলেন, ২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে পারিবারিক অশান্তি, মানসিক অমিল এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মাধ্যমে অপমান ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে তিনি স্ত্রী আসামা আক্তারকে তালাক দেন। তালাকের নোটিশ পাঠানোর দুই দিন পর তাঁর সাবেক স্ত্রী তাঁর বিরুদ্ধে ঢাকার হাজারীবাগ থানায় যৌতুকের মামলা করেন। ওই মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়। প্রায় দেড় মাস পর ঢাকা হাইকোর্ট থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি জানতে পারেন, ঢাকার মিতালী রোডের ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মালামাল সাবেক স্ত্রী সরিয়ে নিয়েছেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মামলায় ঢাকা জজ কোর্টে হাজিরা দিতে গেলে সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা আদালত প্রাঙ্গণে জনসম্মুখে তাঁকে মারধর করেন। বিষয়টি বিভিন্ন সংবাদপত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়।সালাহ উদ্দিনের দাবি, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকায় কিডনি রোগের চিকিৎসা নিতে গেলে তাঁর সাবেক স্ত্রী, তাঁর মা, দুই ভাই ও ভাবিরা হাসপাতালে গিয়ে তাঁকে মারধর করেন। তাঁকে সেখান থেকে তুলে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। পরে দারুস সালাম থানার পুলিশের সহায়তায় তিনি রক্ষা পান।এরপর একই বছরের মে মাসে ঢাকার আদাবরের বাসায় গভীর রাতে সাবেক স্ত্রী হামলা করেন এবং তাঁর মোটরসাইকেল নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ২০২৬ সালের জুলাইয়ে আলমডাঙ্গার গ্রামের বাড়ি থেকে ঢাকায় সুন্দরবন এক্সপ্রেস ট্রেনে যাওয়ার সময় সকাল সাড়ে ৫টার দিকে কমলাপুর রেলস্টেশনে তাঁর সাবেক স্ত্রী, তাঁর পরিবারের সদস্য ও ভাড়াটে লোকজন তাঁকে মারধর করেন। এ সময় তাঁর কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া এবং তাঁকে রেললাইনের দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে পুলিশের সহায়তায় প্রাণে বেঁচে যান বলে দাবি করেন সালাহ উদ্দিন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাঁর ছোট ভাই ছাত্রলীগ নেতা মাহমুদুল হাসান রনির কাছ থেকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়ার অভিযোগে তাঁর ভাইয়ের বিরুদ্ধে চুয়াডাঙ্গা আদালতে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাঁর সাবেক স্ত্রী আসামা আক্তার ও তাঁর ভাই গত ২৭ আগস্ট পরিবারের সদস্যদের নিয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালত প্রাঙ্গণে তাঁকে আবারও মারধর করেন বলে দাবি তাঁর।সালাহ উদ্দিন বলেন, বর্তমানে তালাকপ্রাপ্তির প্রায় ২০ মাস পর আবারও আলমডাঙ্গা আদালতে তাঁর নামে মিথ্যা যৌতুকের মামলা দিয়ে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। এসব ঘটনাকে রাজনৈতিক ও বিভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁর সাবেক স্ত্রী বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালাচ্ছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তিনি আরও দাবি করেন, তাঁর সাবেক স্ত্রী ২০২২ সালে তাঁর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে কোমরের হাড় ভেঙে দেন। তাঁর বাবা এখনও বিছানাগত। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে তাঁর বাবাকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার সময়ও সাবেক স্ত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা তাঁদের গাড়ি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সালাহ উদ্দিন বলেন, তাঁর সাবেক স্ত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেকে ‘নির্যাতিত’ নারী হিসেবে উপস্থাপন করে বিভিন্ন ব্যক্তি ও রাজনৈতিক নেতাদের নাম ব্যবহার করে তাঁদের অজ্ঞাতেই বিভিন্ন কর্মকাণ্ড করছেন। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। নিজে একজন গণমাধ্যমকর্মী দাবি করে সালাহ উদ্দিন তাঁর ও তাঁর পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা কামনা করেন। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সালাহ উদ্দিনের সাবেক স্ত্রী আসামা আক্তার বা তাঁর পরিবারের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীন সত্যতা যাচাইও সম্ভব হয়নি।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply