
তিতাস নদী ও পরিবেশ রক্ষায় সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি জনসম্পৃক্ততা বাড়িয়ে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন নদী ও পরিবেশকর্মীরা।নদী, পরিবেশ ও প্রকৃতি রক্ষার সামাজিক সংগঠন নোঙর বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার উদ্যোগে ‘তিতাস নদী ও পরিবেশ রক্ষায় আমাদের করণীয়’ শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালায় এ আহ্বান জানানো হয়।বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আনিসুল হক রিপনের সঞ্চালনায় আয়োজিত কর্মশালায় তিতাস নদীর দখল-দূষণ, অবৈধ বালু উত্তোলন, নাব্যতা সংকট, জলাশয় ভরাট, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং পরিবেশ রক্ষায় জনসচেতনতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হয়। নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সভাপতি মো. মনির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম্যান সুমন শামস। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সুমন শামস বলেন, তিতাস নদী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি, মৎস্য ও পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। নদী রক্ষায় শুধু সরকারি উদ্যোগই যথেষ্ট নয়, এ কাজে জনগণকেও সম্পৃক্ত করতে হবে। নদী দখল, দূষণ ও অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে সবাইকে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। তিনি আরও বলেন, প্রকৃতি ধ্বংস করে কোনো এলাকার টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। তিতাসসহ জেলার সব নদী, খাল-বিল ও জলাশয় রক্ষায় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পরিবেশবাদী সংগঠন ও সাধারণ মানুষকে সমন্বিতভাবে এগিয়ে এসে কাজ করতে হবে। কর্মশালায় বিশেষ অতিথি ছিলেন পরিবেশ অধিদপ্তর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপপরিচালক নিজাম উদ্দিন শেখ, বিআইডব্লিউটিএ ভৈরব শাখার ইন্সপেক্টর জসিম উদ্দিন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপসহকারী প্রকৌশলী রাতুল বনিক, পরিবেশ ও হাওর উন্নয়ন সংস্থার সভাপতি কাসমির রেজা, নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুর রহিম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি জাবেদ রহিম বিজন ও সাধারণ সম্পাদক বাহারুল ইসলাম মোল্লা।এছাড়া নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া বিল্লাল, সহসভাপতি শামীমা বাছির স্মৃতি, সিনিয়র সাংবাদিক শেখ শহিদুল ইসলাম, ঐক্যবদ্ধ সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শেখ আরিফ বিল্লাহ আজিজীসহ পরিবেশকর্মী, সাংবাদিক, শিক্ষক, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ কর্মশালায় অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মশালায় তিতাস নদী ও পরিবেশ রক্ষায় করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করা হয় এবং নদী, জলাশয় ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়। কর্মশালা শেষে ঢাকা থেকে আসা নোঙর বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটির সদস্যদের সঙ্গে নিয়ে শহরের ঐতিহ্যবাহী আনন্দবাজার নৌকাঘাটে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন। পরে তারা তিতাস নদীতে ঘুরে নদীটির বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply