বাণিজ্য সম্প্রসারণে পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়ানোর তাগিদ
বাংলাদেশ-ভারতের সীমান্ত বাণিজ্য আরও গতিশীল ও সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে হিলিতে যৌথ দ্বিপাক্ষিক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় হিলি স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা দ্রুত সমাধানের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের হিলি ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট এলাকায় হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে এ সভার আয়োজন করা হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল, হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জর্জ মিত্র চাকমা এবং হাকিমপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন। এ সময় বাংলাদেশ ও ভারতের বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, আমদানি-রপ্তানিকারক, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট প্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা উপস্থিত ছিলেন। মতবিনিময় সভায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ভিত্তিতে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে। হিলি স্থলবন্দরকে কেন্দ্র করে পরিচালিত আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম উভয় দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এ কার্যক্রম আরও সম্প্রসারণে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ও কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার শ্রী মনোজ কুমার বলেন, বাংলাদেশ ও ভারতের বাণিজ্যিক সম্পর্ক দিন দিন আরও শক্তিশালী হচ্ছে। সীমান্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতা বাড়াতে হবে। যেকোনো যৌক্তিক সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের পথ খুঁজে বের করতে হবে। হিলি কাস্টমস সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. ফেরদৌস রহমান বলেন, দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দর হিসেবে হিলির গুরুত্ব দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী নেতাদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। তিনি ব্যবসায়ীদের সুবিধার্থে ভারতীয় ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া আরও সহজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। সাধারণ সম্পাদক মো. শাহীনুর ইসলাম মণ্ডল বলেন, বন্দরের কার্যক্রম সহজ, স্বচ্ছ ও গতিশীল রাখতে দুই দেশের ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর মধ্যে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। পারস্পরিক সহযোগিতা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধান সম্ভব। সভায় অংশ নেওয়া ব্যবসায়ী নেতারা সীমান্ত বাণিজ্যের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও ভারতের ব্যবসায়িক সম্পর্ক আরও সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক কার্যক্রমকে গতিশীল করতে একযোগে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply