
পাখি প্রকৃতির অলংকার—আর এই অলংকার রক্ষায় দীর্ঘদিন ধরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে পরিবেশবাদী সংগঠন ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’। চুয়াডাঙ্গাসহ আশপাশের জেলায় বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও নিরাপত্তায় তাদের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে সোমবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলার ‘ডিসি ইকো পার্কে’ ৬টি তিলাঘুঘু পাখি অবমুক্ত করা হয়েছে। অসুস্থ ও উদ্ধারকৃত বন্যপ্রাণীকে সেবা প্রদান শেষে প্রকৃতিতে ফিরিয়ে দেওয়ার এই বিশেষ কার্যক্রমটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুক্তছন্দ’। পাখি অবমুক্তকরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন দামুড়হুদা উপজেলা বন কর্মকর্তা সুরেশ চন্দ্র মিস্ত্রি।অনুষ্ঠানে অনুভূতি প্রকাশ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লাভলী ইয়াসমিন বলেন, “আজ আমি অত্যন্ত আনন্দিত, কারণ নিজ হাতে ৬টি পাখিকে তাদের নিজস্ব পরিবেশে ফিরিয়ে দিতে পেরেছি। ‘বাংলাদেশ ওয়াইল্ডলাইফ অ্যান্ড নেচার ইনিশিয়েটিভ’ সংগঠনটিকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও নিবিড় সেবায় ছোট পাখির ছানাগুলো আজ মুক্ত আকাশ পেল। আমি তাদের এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই এবং এর ধারাবাহিকতা কামনা করি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় আমাদের সবাইকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।” সংগঠনের সভাপতি ও বড় সলুয়া নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের প্রভাষক আহসান হাবীব শিপলু পাখিগুলোর উদ্ধার ও সেবার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে বলেন, “গত ২১ জুন জেলা প্রশাসক জনাব লুৎফুন নাহারের নির্দেশে জেলা কারাগার এলাকা থেকে ৫টি তিলাঘুঘুর ছানা উদ্ধার করা হয়। ছানাগুলোর ডানায় তখনো ওড়ার মতো পর্যাপ্ত পালক না ওঠায় জেলা প্রশাসন পাখিগুলোকে আমাদের সংগঠনের কাছে হস্তান্তর করে। আমরা দীর্ঘ ১ মাস ৬ দিন নিবিড়ভাবে সেগুলোকে লালন-পালন ও সেবা প্রদান করি। বর্তমানে পাখিগুলো ওড়ার পূর্ণ ক্ষমতা অর্জন করেছে। এর সাথে আরও একটি উদ্ধার করা ঘুঘু যুক্ত করে মোট ৬টি পাখি আজ প্রকৃতিতে মুক্ত করা হলো। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও সচেতনতা বাড়াতে আমাদের এই প্রচারণা ও সেবা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।” অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সদস্য সাহাবুল, নিরব, আবরার ফাইয়াজ, আলমাছ, রিয়াদসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। উপস্থিত সকলে সংগঠনের এই প্রশংসনীয় ও মানবিক কাজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply