
চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের আয়োজনে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরের গরিব ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বেলা ১১টায় পরিষদ চত্বরে এই অনুষ্ঠানটি আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুকুল কুমার মৈত্রী। সভায় শিক্ষাবৃত্তির বিভিন্ন কার্যক্রম ও শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে জেলা পরিষদের কার্যক্রম নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সাথে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভার প্রধান অতিথি পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ বলেন, ‘জেলা পরিষদ সবসময় শিক্ষাবান্ধব কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দিয়ে আসছে। মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো আমাদের দায়িত্ব। ভবিষ্যতেও শিক্ষাবৃত্তি, শিক্ষা উপকরণ বিতরণসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। আমি বৃত্তিপ্রাপ্ত সকল শিক্ষার্থীকে অভিনন্দন জানাই এবং তাদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করি।’
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের বিভাগীয় প্রধান ড.মুন্সি আবু সাইফ বলেন, ‘একটা জাতির কর্ণধর মেধাবী শিক্ষার্থীরা। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা খরচ যেমন যোগাবে ঠিক তেমনি পড়াশোনার জীবনে উৎসাহ দিবে। মেধাবী শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে উচ্চ শিখরে আরোহন করার আগে বিনয়ী হতে হবে। এই বৃত্তি শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এক নতুন দিগন্ত আলোয় আলোকিত করবে।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘শিক্ষাই একটি জাতির উন্নয়নের প্রধান ভিত্তি। মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে জেলা পরিষদের এই শিক্ষাবৃত্তি কার্যক্রম অত্যন্ত প্রশংসনীয়। এই বৃত্তি শুধু আর্থিক সহায়তা নয়, এটি শিক্ষার্থীদের আরও ভালো ফলাফল অর্জনের প্রেরণা জোগাবে। তোমরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে, তাই সততা, নৈতিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।’
চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. এ.কে.এম সাইফুর রশীদ বলেন, ‘শিক্ষায় বিনিয়োগই সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ। আজ যারা শিক্ষাবৃত্তি পাচ্ছে, তারা ভবিষ্যতে সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সরকার ও জেলা পরিষদ শিক্ষার মানোন্নয়নে নানা উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে। আমি শিক্ষার্থীদের নিয়মিত অধ্যয়ন, প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানাই।’
এসময় সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, শিক্ষার্থী আরাফাত ইসলাম, নাজিফা আনজুম মুনিয়া, বিপ্লব হোসেন, অভিভাবক টোকন আলী, প্রমুখ।
জেলা পরিষদ সুত্রে জানাগেছে, উচ্চ মাধ্যমিকের ১৫০ জন শিক্ষার্থীদের মাঝে ৫ হাজার করে মোট ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৪ জনকে ৭ হাজার করে ৭ লাখ ২৮ হাজার টাকা। প্রকৌশলীর ১৬ জন শিক্ষার্থীকে ৮ হাজার করে ১ লাখ ২৮ হাজার টাকা। মেডিকেলের ২২ জনকে ১০ হাজার করে ২ লাখ ২০ হাজার টাকা। মোট ২৯২ জন শিক্ষার্থীকে ১৮ লাখ ২৬ হাজার শিক্ষাবৃত্তি প্রদান করা হয়।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply