
ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে থানার সামনে দুই সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার রাত ৯টা দিকে এ ঘটনা ঘটে। এসময় ওসি জেল্লাল হোসেন ফোর্স নিয়ে সেখানে উপস্থিত ছিলেন। ওই দুই সাংবাদিক কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন। আহত সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ দীপ্ত টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কালীগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি এবং মিশন আলী নাগরিক টিভির ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি। সাংবাদিক মিশন আলী বলেন, গত তিন দিন আগে শহরের আড়পাড়া এলাকায় মাদক কারবার নিয়ে মিলন হোসেন নামে এক যুবককে মারধর করে এলাকার অজ্ঞাত কয়েকজন যুবক। এই ঘটনায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে মিঠু ও ইয়াসিন নামে দুই যুবককে থানায় তুলে নিয়ে আসে পুলিশ।
“রাত ৯ টার দিকে সংবাদ সংগ্রহের জন্য থানার সামনে যাই। এ সময় যুবদল ও কৃষকদলের কয়েকজন নেতাকর্মী থানায় আসা মহিলাদের হামলা করে।”
ভুক্তভোগী মিশন আলী আরও বলেন, কৃষকদল নেতা জালাল উদ্দিন বিএনপিদের কোনো ভিডিও করা যাবে না বলে সাংবাদিকদের হুমকি দেন। এরপর জালাল প্রথমে আমার ওপর হামলা করে। এরপর ইসলামী ব্যাংক কালীগঞ্জ শাখার স্টাফ কমলাপুর গ্রামের হাসান, নদীপাড়ার টিটো এবং ফারাসপুর গ্রামের রবিউল আমাকে মারধর করেন। অপর ভুক্তভোগী সাংবাদিক শাহরিয়ার আলম সোহাগ বলেন, ওসির সামনে হামলার পর তাকে গ্রেফতার না করে সেফ এক্সিট দিয়েছে। এ বিষয়ে কৃষকদল নেতা জালাল উদ্দিনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তার বক্তব্য যায়নি।কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, পৌর এলাকার আড়পাড়া গ্রাম থেকে মাদক মামলার আসামি আটক করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ। এ খবর পেয়ে ওই গ্রামের নারী ও পুরুষরা থানা ঘেরাও করার চেষ্টা করে। বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের ডেকে গ্রামের মানুষগুলোকে বুঝিয়ে শুনিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়ার অনুরোধ করি। এসময় কৃষকদলের জালালসহ কয়েকজন নারীদের গাড়িতে তুলে দেয়ার চেষ্টা করে। “ওই সময় সাংবাদিকরা ভিডিও করলে বিএনপি নেতারা তাতে বাধা দিলে ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। বিষয়টি দেখতে পেয়ে আমি বিএনপি নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থল থেকে সরিয়ে দেই। সাংবাদিকদের আমরা নিরাপত্তা দিয়েছি।”
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply