
চট্টগ্রামের বাকলিয়া এক্সেস রোডে ডিডিএন নামে একটি ইন্টারনেট সেবা প্রতিষ্ঠানে এককালীন দুই কোটি ও মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা চেয়ে হামলা, ভাঙচুর ও পঁয়ত্রিশ লক্ষাধিক টাকা লুটের ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করেছে পুলিশ। মামলার তদন্ত কার্যক্রম এবং এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যান্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষ্যে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানান চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহমেদ। তিনি বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে হামলা ও টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাত থেকে বুধবার সকাল পর্যন্ত নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে চকবাজার থানা ও ডিবি পুলিশ। ঘটনার মূল হোতা ডেভিড ইমনকে গ্রেফতারেও পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- বায়েজিদ বোস্তামি থানাধীন ওয়াজেদিয়া এলাকার মৃত মো. সামছু মিয়ার ছেলে মো. ইউনুস (৪১), পাঁচলাইশ থানাধীন মোমিনবাগ এলাকার ইব্রাহিমের ছেলে ইমরান হোসেন (৩১), বাকলিয়া থানাধীন শান্তিনগর বগারবিল এলাকার মো. ইউসুফ হোসেন সরকারের ছেলে আকবর হোসেন (২৪), সদরঘাট থানাধীন পশ্চিম মাদারবাড়ী এলাকার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে মো. সুমন (২৭), বাকলিয়া থানাধীন মাস্টারপুল বৌ বাজার এলাকার আমির হোসেনের ছেলে মো. মনির প্রকাশ কেহেরমান (৩৮), চকবাজার থানাধীন বগারবিল পোড়াকলোনি এলাকার মফিজ মিয়ার ছেলে মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), বাকলিয়া থানাধীন শান্তিনগর বগারবিল এলাকার মৃত বেনা মিয়ার ছেলে মো. নয়ন (২০) ও বাকলিয়া থানাধীন পশ্চিম বাকলিয়া এলাকার মো. আবদুস ছাত্তারের ছেলে মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ প্রকাশ ফরহাদ (২৮)। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক আইনে চার থেকে পাঁচটি করে মামলা রয়েছে। এর আগে গত ১১ জুলাই শনিবার নগরীর দীর্ঘদিনের ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন)-এর স্বত্বাধিকারীকে ডেবিড ইমন পরিচয়ে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে ভয়ভীতি দেখানো হয়। এ সময় সন্ত্রাসীরা এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে, গত ১৩ জুলাই দুপুর সোয়া ১২টা থেকে সাড়ে ১২টার মধ্যে চকবাজার থানাধীন চন্দনপুরা বাকলিয়া অ্যাক্সেস রোডের ‘মরিয়ম হাইটস’ ভবনের তৃতীয় তলায় অবস্থিত ডিডিএন-এর অফিসে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী দল অতর্কিত হামলা চালায়। অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জিম্মি করে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার ও আসবাবপত্র ব্যাপক ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া অফিসের ড্রয়ারে থাকা নগদ ৪৭ হাজার টাকা, ৩টি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক আরিফুল ইসলামের কাঁধে থাকা ব্যাগটি ছিনিয়ে নেয়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন প্রদানের জন্য রাখা ৩৫ লাখ টাকা ছিল। এ ঘটনায় চকবাজার থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply