নেপালের ভারত সীমান্তবর্তী জেলা পারসার বীরগঞ্জে একটি টিকটক ভিডিওকে কেন্দ্র করে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কারফিউ জারি করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
নেপালি সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, গত রোববার ভারতের বিহার রাজ্যের সীমান্তবর্তী বীরগঞ্জে ধনুশার কমলা পৌরসভার বাসিন্দা হায়দার আনসারি এবং আমানত আনসারি নামে দুই যুবক একটি হিন্দু বিরোধী টিকটক ভিডিও আপলোড করেছিলেন। এই ভিডিওকে কেন্দ্র করে স্থানীয় মুসলিমদের সঙ্গে বিরোধের সূত্রপাত হয় হিন্দুদের। কমলা পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডে একটি মসজিদ ভাঙচুরের পর উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়। সেই মসজিদ ভাঙচুরের দৃশ্য টিকটকসহ অনান্য সামাজিকমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এতে বীরগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে উভয় পক্ষই রাস্তায় নেমে আসে এবং সংঘর্ষে জড়ায়। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগে ইতোমধ্যেই ওই দুই যুবককে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তবে এতেও উত্তেজনা কমেনি, উভয় পক্ষই একযোগে বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে ধর্মীয় ও সামাজিক বিষয় নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে উত্তেজনা ও সংঘর্ষের পর শহরে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে সোমবার সন্ধ্যা থেকে কারফিউ জারি করে স্থানীয় প্রশাসন। পারসা জেলা প্রশাসন কার্যালয় জানিয়েছে, সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত জারি করা কারফিউ প্রথমে মঙ্গলবার দুপুর ১টা পর্যন্ত এবং পরে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।
প্রধান জেলা কর্মকর্তা ভোলা দাহাল বলেন, বীরগঞ্জ মেট্রোপলিটন সিটি এলাকা জুড়ে কারফিউ জারি করা হয়েছে। এসময় সকল ধরনের জমায়েত, সভা, সমাবেশ এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বাসিন্দাদের জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাড়ির বাইরে না বেরোনোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। যাদের বাইরে বেরোতে হবে তাদের কাছের নিরাপত্তা কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে অথবা জরুরি নম্বর ১০০-তে কল করতে অনুরোধ করা হয়েছে।
নেপাল পুলিশ জানিয়েছে, ফেসবুক, টিকটক এবং ইনস্টাগ্রামের মতো সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্টগুলোতে সামাজিক, ধর্মীয় বা সাংস্কৃতিক শত্রুতা উস্কে দেওয়া, জাতীয় ঐক্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করা অথবা সম্প্রদায়ের সামাজিক সুনাম নষ্ট করে এমন মিথ্যা গুজব ছড়ানোর সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে।’
অন্যদিকে এই উত্তেজনা ঘিরে নেপালের সঙ্গে সীমান্তক্রসিং বন্ধ করে দিয়েছে ভারত।
Leave a Reply