1. bennett_il6zyh@gmail.com : bennett :
  2. bot@local.invalid : Service Bot :
  3. newioszu_at9x0b@protonmail.com : newioszu :
  4. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  5. cnbtvbdar@outlook.com : vulohiwl :
  6. admin@cnbtvbd.com : admin :
রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০২:৩৬ অপরাহ্ন

সমঝোতা ছাড়াই ‘ভেস্তে গেল’ যুক্তরাষ্ট্র-ইরান শান্তি আলোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট টাইম : রবিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৬
  • ৩৯ বার পঠিত

পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রায় ২১ ঘণ্টাব্যাপী দীর্ঘ আলোচনার পরও ইরানের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি যুক্তরাষ্ট্র। এতে দুই দেশের মধ্যে চলমান শান্তি আলোচনা কার্যত ভেস্তে গেছে। আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।

রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে ইসলামাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে জেডি ভ্যান্স জানান, আলোচনায় অগ্রগতি না হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। সূত্র: বিবিসি ও দ্যা ডনের।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যৌথভাবে হামলা শুরু করে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল। জবাবে ইসরায়েলসহ পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলা শুরু করে ইরান। একই সঙ্গে জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালি প্রায় বন্ধ করে দেয় তেহরান। এতে প্রায় সারা বিশ্বে জ্বালানি নিয়ে অস্থিরতা শুরু হয়। এতে যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ তৈরি হয়। এ পরিস্থিতিতে পাকিস্তানসহ কয়েকটি দেশের মধ্যস্থতায় গত বুধবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেন। এরপর ইরানও যুদ্ধবিরতির বিষয়টি নিশ্চিত করে। এর ধারাবাহিকতায় যুদ্ধবিরতি চূড়ান্ত করতে গতকাল ইসলামাবাদে আলোচনায় বসে দুই পক্ষ। পাকিস্তানের রাজধানীর একটি হোটেলে ‘ইসলামাবাদ টকস’ শিরোনামে দুই পক্ষের মধ্যে এ আলোচনা শুরু হয়।

এতে লেবাননে চলমান ইসরায়েলি হামলা, হরমুজ প্রণালি পরিস্থিতি, ইরানের জব্দ করা সম্পদ ছাড় দেওয়ার প্রসঙ্গসহ নানা বিষয় উঠে আসে। দীর্ঘ প্রায় ২১ ঘণ্টার আলোচনা শেষে সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জানান, দুই পক্ষের দীর্ঘ ২১ ঘণ্টার আলোচনায় কোনো সমঝোতা হয়নি। ফলে মার্কিন প্রতিনিধি দল এখন পাকিস্তান ছাড়ার পরিকল্পনা করছে। ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এখন পর্যন্ত ২১ ঘণ্টা আলোচনা করেছি এবং বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কথা হয়েছে এটাই ভালো খবর। তবে খারাপ খবর হলো, আমরা কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারিনি।’ তিনি আরো বলেন, ‘আমরা স্পষ্টভাবে আমাদের সীমারেখা নির্ধারণ করেছি কোন বিষয়ে আমরা সমঝোতা করতে পারি এবং কোন বিষয়ে পারি না। কিন্তু ইরানের প্রতিনিধিদল আমাদের শর্তগুলো মেনে নেয়নি।’

ইরান কী প্রত্যাখ্যান করেছে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাওয়া হলে তিনি বিস্তারিত প্রকাশ করতে চাননি।

ভ্যান্স বলেন, ‘আমি সব বিস্তারিত বলব না, কারণ আমরা ২১ ঘণ্টা ধরে ব্যক্তিগতভাবে আলোচনা করেছি, তারপর এখন প্রকাশ্যে গিয়ে আবার সেই আলোচনা চালাতে চাই না। তবে সরল সত্য হলো, আমাদের এমন একটি স্পষ্ট অঙ্গীকার প্রয়োজন যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না এবং এমন কোনো উপায়ও অনুসরণ করবে না, যার মাধ্যমে দ্রুত পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করা সম্ভব।’

এটিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘মূল লক্ষ্য’ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেটিই এই আলোচনার মাধ্যমে অর্জনের চেষ্টা করা হয়েছে।

মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট আরো বলেন, ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ স্থাপনাগুলো ‘ধ্বংস করা হয়েছে’, তবে মূল প্রশ্ন হলো-ইরান কি দীর্ঘমেয়াদে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি না করার বিষয়ে ‘মৌলিক ও দৃঢ় রাজনৈতিক অঙ্গীকার’ দেখাবে কি না। এটা শুধু এখন বা দুই বছর পরের বিষয় নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না-এমন অঙ্গীকার আমরা এখনো দেখিনি, তবে আশা করি দেখব’।-বলেন তিনি।

ইরানের জব্দ করা সম্পদ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে ভ্যান্স বলেন, ‘আমরা এসবসহ আরো অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি। কিন্তু আমরা এমন কোনো অবস্থায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে ইরান আমাদের শর্ত গ্রহণ করবে।’

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল ‘খুবই নমনীয়’ এবং ‘সহযোগিতামূলক’ ছিল।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনাকারী দলকে বলেছেন, তারা যেন ‘সদিচ্ছা নিয়ে এসে নিজেদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। আমরা সেটাই করেছি। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত আমরা কোনো অগ্রগতি অর্জন করতে পারিনি।-যোগ করেন ভ্যান্স। আলোচনার সময় ট্রাম্পের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট বলেন, প্রতিনিধি দল নিয়মিতভাবে প্রেসিডেন্ট ও অন্যান্য শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছিল।

‘আমরা ক্রমাগত আমাদের টিমের সঙ্গে যোগাযোগে ছিলাম, কারণ আমরা সদিচ্ছা নিয়েই আলোচনা করছিলাম। আর আমরা একটি খুবই স্পষ্ট প্রস্তাব নিয়ে এখানে এসেছি, এটাই আমাদের চূড়ান্ত ও সর্বোত্তম প্রস্তাব। এখন দেখা যাক, ইরান এটি গ্রহণ করে কি না।’

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই এক্সে (আগের নাম টুইটার) লিখেছেন, ইসলামাবাদে ইরানি প্রতিনিধিদলের জন্য এটি ছিল ‘ব্যস্ত ও দীর্ঘ একটি দিন’, যেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বহু বার্তা ও যোগাযোগ বিনিময় হয়েছে। তিনি বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় মূল আলোচ্য বিষয়গুলোর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়েছে-এর মধ্যে ছিল হরমুজ প্রণালি, পারমাণবিক ইস্যু, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং ইরান ও অঞ্চলের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধের অবসান।

ইসমাইল বাঘাই আরো বলেন, এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার সাফল্য নির্ভর করছে বিপরীত পক্ষের ‘গুরুত্ব ও সদিচ্ছা’, অতিরিক্ত দাবি থেকে বিরত থাকা এবং ইরানের বৈধ অধিকার ও স্বার্থ মেনে নেওয়ার ওপর।

বাঘাই পাকিস্তান সরকার ও দেশটির জনগণের প্রতি আতিথেয়তা ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই ক্যাটাগরীর আরো খবর
All rights reserved © 2026
Design By Raytahost