শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাদ্রাসা শিক্ষা পুঞ্জির নির্দেশনা উপেক্ষা করে চুয়াডাঙ্গার কয়েকটি দাখিল পরীক্ষা কেন্দ্রে বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চালু না রেখে মাসব্যাপী শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষার্থীরা পাঠদান থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের মাদ্রাসা শাখা-১ থেকে ২০২৬ সালের ১৯ জানুয়ারি জারি করা ৫৭.০০.০০০০.০৫৫.৩৩.০১০.২১-০৭ স্মারকের প্রজ্ঞাপনের দ্বিতীয় পাতার ৫ নম্বর নির্দেশনায় বলা হয়েছে— “পাবলিক পরীক্ষা কেন্দ্র থাকলে উক্ত মাদ্রাসায় পরীক্ষার সময় বিকল্প ব্যবস্থায় এবং কেন্দ্র ব্যতীত অন্যান্য মাদ্রাসায় যথারীতি শ্রেণি কার্যক্রম চালু থাকবে। কোনো অবস্থাতেই পাঠদান/শ্রেণি কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না।
তবে বাস্তবে জেলার কয়েকটি মাদ্রাসায় এ নির্দেশনা মানা হচ্ছে না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
দামুড়হুদা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আসাদুল হক বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনা অনুযায়ী যেদিন পরীক্ষা থাকে না, সেদিন সকাল ৭টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত পাঠদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আলাদা নির্দেশনার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও জানান।
সরকারি নির্দেশনা পরীক্ষার দিনও বিকল্প উপায়ে শ্রেণী কার্যক্রম চালু লাখতে হবে।
অন্যদিকে আলমডাঙ্গা সিদ্দিকীয়া আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজুল ইসলাম জানান, তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজে হওয়ায় মাদ্রাসায় নিয়মিত পাঠদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী অভিযোগ করে বলেন, দামুড়হুদার একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম পরীক্ষা চলাকালে মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষে পাঠদান বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বিকল্প ব্যবস্থায়ও পাঠদান চালানো সম্ভব হচ্ছে না।
তবে এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন একাডেমিক সুপারভাইজার রাফিজুল ইসলাম। তিনি বলেন, অধ্যক্ষের সঙ্গে এ ধরনের কোনো কথা হয়নি।
জীবননগর ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল খালেক জানান, তাদের পরীক্ষা কেন্দ্র শাপলা কলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হওয়ায় মাদ্রাসায় যথারীতি ক্লাস চলছে।
চুয়াডাঙ্গা কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মীর জান্নাত আলী জানান, তাদের পরীক্ষা চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মাধ্যসসক বিদ্যালয়ে হওয়ায় মাদ্রাসায় যথারীতি ক্লাস চলছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জেসমিন আরা খাতুন বলেন, এ ধরনের নির্দেশনার বিষয়ে তার জানা নেই। বিকল্প ব্যবস্থায় পাঠদান চলছে কি না, তা খতিয়ে দেখে বলা যাবে। নির্দেশনা অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না— এমন প্রশ্নেরও তিনি কোনো স্পষ্ট জবাব দেননি।
উল্লেখ্য, সারাদেশের মতো চুয়াডাঙ্গাতেও গত ২১ এপ্রিল থেকে দাখিল পরীক্ষা শুরু হয়েছে। জেলার চার উপজেলা— চুয়াডাঙ্গা সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগরে মোট পাঁচটি কেন্দ্রে এ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, এ বছর জেলায় মোট এক হাজার ১৫২ পরীক্ষার্থী দাখিল পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে চুয়াডাঙ্গা একাডেমি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৪৭ জন, আলমডাঙ্গা মহিলা কলেজ কেন্দ্রে ২৮৫ জন, দামুড়হুদা দারুস সুন্নাহ দাখিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ২০৩ জন, কার্পাসডাঙ্গা ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে ১৬৩ জন এবং জীবননগরের শাপলা কলি আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ২৫৩ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন।
Leave a Reply