
‘বাংলাদেশের মানুষ স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। তা নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে’—এমন মন্তব্য করেছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন। মঙ্গলবার রাতে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের নতুন দায়িত্ব পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের মানুষ যেটা চায়, আমি যেটা মনে করি, এটা হচ্ছে একটা স্থিতিশীলতা এবং নিরাপত্তা। রাজনৈতিক মত প্রকাশের সুযোগ সবার আছে। কিন্তু কোনো কারণে জনজীবন যদি বিপন্ন হয়, দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হয়, অবশ্যই সরকারের যা করার দরকার, সেটা করবে। আইনের ভিতরে থেকেই করবে।” বিএনপি কখনো দেশ ছেড়ে পালিয়ে যায়নি উল্লেখ করে মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, “আমরা যখন আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, এখানে আমাদের এমপি মহোদয় আছেন। বিরোধী দলে হাজারবার জেল খাটার পরেও, মামলা-হামলার শিকার হওয়ার পরও আমরা নিজেরাই সহকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছি।” বিদেশে অবস্থানকারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যারা পালিয়ে বিদেশে আছে, তারা খুব আরামে আছে। কিন্তু এই দরিদ্র পরিবারের সন্তানরা বিভিন্ন জায়গায় গ্রেপ্তার হচ্ছে এসব অপরাধের কারণে, নিষিদ্ধ সংগঠনের এসব কর্মকাণ্ডের কারণে। আমি মনে করি, এটা খুব অন্যায় হচ্ছে। এরা হয়তো টাকার অভাবেই এই কাজগুলো করছে। এরা আদর্শ-নীতি থেকে এসব করছে না।” দেশের অর্থনীতি প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের অর্থনীতি যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে, অর্থাৎ ৩০ লাখ কোটি টাকা ঋণের বোঝা নিয়ে সরকার যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু সাত মাসের মধ্যে সেটার মোড় ঘুরিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী একটি ঊর্ধ্বমুখী গতি মাত্র শুরু করেছেন।” তিনি আরও বলেন, “তখন একটি পক্ষ দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। একদিকে তারা বলছে জ্বালানির সংকট, অন্যদিকে আবার বিপুলসংখ্যক গাড়ি নিয়ে রোডমার্চে যাচ্ছে। তাহলে এটা আসলে হচ্ছে কিনা, মানুষ কিন্তু এসব বুঝে।” এরপর জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি তদারকির দায়িত্বপ্রাপ্ত ও সমন্বয়ক হিসেবে রাত সাড়ে ৯টার দিকে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, রাজনৈতিক নেতা, আইনজীবী ও বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে বিশেষ সভা করেন প্রতিমন্ত্রী। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূইয়া বলেন, “খাগড়াছড়ি জেলার আঞ্চলিক মহাসড়কগুলো যথাযথভাবে প্রশস্তকরণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।” খাগড়াছড়ির জেলা প্রশাসক মো. আনোয়ার সাদাতের সভাপতিত্বে সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন সেনাবাহিনীর খাগড়াছড়ি রিজিয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম ওবায়দুল হক, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ম্রাসাথোয়াই মারমা, জেলা পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইলিয়াস মেহেদী, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমএন আফছার এবং খাগড়াছড়ি প্রেসক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য্য। এর আগে মাটিরাঙ্গায় একটি জামে মসজিদ ও তপ্ত মাস্টারপাড়ায় একটি সেতুর উদ্বোধন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply