
পলিথিনের ভয়াবহ ক্ষতিকর প্রভাব থেকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পলিথিনবিরোধী সচেতনতামূলক কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শহরের বিভিন্ন বাজারে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে পলিথিন বর্জনের আহ্বান জানিয়ে লিফলেট বিতরণ করা হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজের উদ্যোগে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। রোববার সকাল ১১টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের খালপাড়, জগত বাজার, সড়ক বাজার ও আনন্দবাজার এলাকার বিভিন্ন দোকানে গিয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের হাতে পলিথিনবিরোধী সচেতনতামূলক লিফলেট তুলে দেওয়া হয়। কর্মসূচিতে রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও পরিবেশবাদী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। এ সময় নোঙর বাংলাদেশ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কমিটি, ঢেউ ও ঐক্যবদ্ধ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে পলিথিনের ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষকে সচেতন করেন। বিতরণ করা লিফলেটে পলিথিনকে ‘পরিবেশ ও জীবনের অভিশাপ’ হিসেবে উল্লেখ করে এর ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, পলিথিন সহজে পচনশীল নয়। দীর্ঘদিন মাটিতে পড়ে থাকায় এটি মাটির স্বাভাবিক গুণাগুণ ও উর্বরতা নষ্ট করে। এতে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ে। লিফলেটে আরও বলা হয়, পলিথিন ড্রেন, নালা ও জলপ্রবাহের পথ বন্ধ করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে এর কারণে নগরজীবনে দুর্ভোগ বাড়ার পাশাপাশি কৃত্রিম বন্যার আশঙ্কা তৈরি হয়। নদী-খালসহ বিভিন্ন জলাশয়ে পলিথিন জমে জলজ প্রাণীর জীবনও হুমকির মুখে পড়ে। একই সঙ্গে এটি পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। লিফলেটে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ সরকার ২০০২ সাল থেকে পলিথিন শপিং ব্যাগের উৎপাদন, আমদানি, বাজারজাত, বিতরণ ও ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। কর্মসূচিতে জেলা পরিষদের প্রশাসক আলহাজ্ব সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, “পলিথিন শুধু পরিবেশের ক্ষতি করছে না, এটি আমাদের স্বাভাবিক জীবনব্যবস্থা, জীববৈচিত্র্য ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও বড় হুমকি। তাই শুধু প্রশাসনের উদ্যোগে নয়, পলিথিন বর্জনে সমাজের প্রতিটি মানুষকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, পলিথিনের বিকল্প হিসেবে পাট, কাপড় ও কাগজের তৈরি পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারে সবাইকে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবার থেকে শুরু করে বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক পর্যায়ে সচেতনতা তৈরি করা গেলে ধীরে ধীরে পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পরিবেশবান্ধব সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব। লিফলেট বিতরণের সময় স্থানীয় ব্যবসায়ীরা পলিথিন বর্জনের বিষয়ে একমত পোষণ করেন। তারা বলেন, “আমরাও পলিথিন বর্জন করতে চাই। তবে পলিথিনের সহজলভ্য ও সাশ্রয়ী বিকল্প ব্যাগের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।” এ জন্য সরকারের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি বিকল্প পরিবেশবান্ধব পণ্যের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা। কর্মসূচির শেষ পর্যায়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে পলিথিনের পরিবর্তে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে পলিথিনমুক্ত, পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ে তুলতে প্রশাসন, ব্যবসায়ী, সামাজিক সংগঠন ও সাধারণ জনগণকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply