
১৯৭২ সালের ৪ নভেম্বর গণপরিষদে স্বাধীন বাংলাদেশের সংবিধান গৃহীত হয়। এরপর ৫৪ বছরে সংবিধান সংশোধন হয়েছে ১৭ বার। এর মধ্যে কয়েকটি সংশোধনী আদালতের রায়ে পুরোপুরি বাতিল হয়েছে, আবার কয়েকটির নির্দিষ্ট ধারা বা অংশ অসাংবিধানিক ঘোষিত হয়েছে। তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সংবিধান নিয়ে পুরোনো বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছে। সংশোধনের গণ্ডি পেরিয়ে সামনে এসেছে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নও। এ লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে সংবিধান সংস্কার কমিশন, প্রণীত হয়েছে ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ এবং এর বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত হয়েছে গণভোট। কিন্তু সনদের প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের পদ্ধতি নিয়ে বর্তমানে সক্রিয় দেশের দুই গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক দল বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে মতপার্থক্য স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। বিএনপি সংসদীয় প্রক্রিয়ায় সংবিধান সংশোধনের পক্ষে থাকলেও জামায়াতে ইসলামী চায় সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের মাধ্যমে সনদ বাস্তবায়ন করতে। ফলে সংবিধান দিবসে এসে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে সামনে এসেছে মৌলিক এক প্রশ্ন- সংবিধানের পরিবর্তন কি সংশোধনের পথেই হবে, নাকি প্রয়োজন হবে সংস্কারের নতুন কোনো প্রক্রিয়া? সংবিধান সংশোধন না সংস্কার প্রশ্নে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, সংবিধান সংশোধনসংক্রান্ত বিশেষ কমিটি কাজ করছে। বাংলাদেশের সংবিধানে ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে কোনো পরিষদের বিধান নেই। এজন্য সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিলেও তারা অন্য কোনো শপথ নেননি।সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, কোনো প্রতিষ্ঠানই যেন অনিয়ন্ত্রিত ক্ষমতার অধিকারী হয়ে স্বৈরতান্ত্রিক হয়ে উঠতে না পারে, তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। উচ্চকক্ষ প্রবর্তন, নির্বাচনি ব্যবস্থায় সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি চালু এবং গণভোট-সংক্রান্ত বিভিন্ন প্রস্তাবের বিষয়ে বিরোধী দলসহ সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা ও রাজনৈতিক সমঝোতার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, সরকার কোনো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বা বিভাজন চায় না। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও তরুণ প্রজন্মের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গণতান্ত্রিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে সব রাজনৈতিক দল ও জনগণের মধ্যে পারস্পরিক ঐক্য এবং রাজনৈতিক সমঝোতা অপরিহার্য। অন্যদিকে বিরোধী দল সংবিধান সংস্কার চেয়ে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠক বর্জন করেছে। জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এই সংবিধান ফ্যাসিবাদের জন্মই শুধু দেয়নি, ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছিল। অতীতের ভুল ধারায় চলতে আমরা অভ্যস্ত নই, আমরা রাজি নই। এই জন্যই আমরা সংস্কার চাই। জামায়াত আমির বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে বিএনপির অবস্থানের সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার প্রস্তাবগুলোতে আপত্তি জানিয়ে বিএনপি অনেক বিষয়ে ‘নোট অব ডিসেন্ট’ দিয়েছিল। যেসব বিষয়ে আপত্তি নেই, সেগুলোও এখন এড়িয়ে যাওয়া হচ্ছে। জামায়াতের আমিরের দাবি, বিএনপি গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে অবস্থান নেয়নি। বরং দেশে-বিদেশে দলটির লোকজনকে ‘না’ ভোট দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। তবে জনগণের রায়ে সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে।
১৯৭২ সালে সংবিধান প্রণয়নের পর থেকে গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে ১৭ বার। ১৯৭২ সালে সংবিধান কার্যকর হওয়ার পর ১৯৭৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এসব সংশোধনী জাতীয় সংসদে পাস হয়। তবে সব সংশোধনী এখনো আগের অবস্থায় কার্যকর নেই। কয়েকটি সংশোধনী উচ্চ আদালত ও আপিল বিভাগের রায়ে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে বাতিল হয়েছে। আবার কিছু সংশোধনীর বাতিল হওয়া অংশ পরবর্তী সময়ে আদালতের রায়ে পুনর্বহাল হয়েছে। প্রথম সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের ১৫ জুলাই প্রথম সংশোধনী পাস হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত গণহত্যা, মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের বিচারের পথ সুগম করতে এ সংশোধনী আনা হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন এবং ৪৭ক অনুচ্ছেদ সংযোজন করা হয়। দ্বিতীয় সংশোধনী: ১৯৭৩ সালের ২২ সেপ্টেম্বর দ্বিতীয় সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানে জরুরি অবস্থা ঘোষণার বিধান যুক্ত করা হয়। পাশাপাশি জরুরি অবস্থার সময় নাগরিকদের কিছু মৌলিক অধিকার স্থগিত রাখার সুযোগ তৈরি হয়। নিবর্তনমূলক আটকসংক্রান্ত বিধানেও পরিবর্তন আনা হয়। তৃতীয় সংশোধনী: ১৯৭৪ সালের ২৮ নভেম্বর তৃতীয় সংশোধনী পাস হয়। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে স্থলসীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সংশোধনী আনা হয়। এর মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে ছিটমহল বিনিময় ও সীমান্ত নির্ধারণের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করা হয়। চতুর্থ সংশোধনী: ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি চতুর্থ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থা চালু করা হয়। রাষ্ট্রপতির ক্ষমতা বাড়ানো, সংসদের ক্ষমতা সীমিত করা এবং বিচার বিভাগের কাঠামোয় পরিবর্তন আনা হয়। একই সঙ্গে একদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থা প্রবর্তনের সাংবিধানিক ভিত্তি তৈরি করা হয়, যার ধারাবাহিকতায় বাকশাল গঠিত হয়। এ চারটি সংশোধন শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারের আমলে পাস হয়। পঞ্চম সংশোধনী: ১৯৭৯ সালের ৬ এপ্রিল পঞ্চম সংশোধনী পাস হয়। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট থেকে ১৯৭৯ সালের ৯ এপ্রিল পর্যন্ত সামরিক শাসনামলে জারি করা বিভিন্ন ফরমান, আদেশ ও সাংবিধানিক পরিবর্তনকে বৈধতা দেওয়া হয়। এ সংশোধনীর মাধ্যমে সংবিধানের মূলনীতিতেও পরিবর্তন আনা হয়। ধর্মনিরপেক্ষতার পরিবর্তে সর্বশক্তিমান আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও বিশ্বাস যুক্ত করা হয় এবং সংবিধানের প্রস্তাবনায় ‘বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম’ সংযোজন করা হয়। পরবর্তী সময়ে আদালত এ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। এ সংশোধনী আনেন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। ষষ্ঠ সংশোধনী: ১৯৮১ সালে ষষ্ঠ সংশোধনী পাস হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তৎকালীন উপরাষ্ট্রপতি বিচারপতি আবদুস সাত্তারকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিতে এ সংশোধনী আনা হয়। এর মাধ্যমে সংবিধানের ৫১ ও ৬৬ অনুচ্ছেদে পরিবর্তন করা হয়।রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সরকারের আমলে পাস হয় সপ্তম, অষ্টম, নবম ও নবম সংশোধনী। সপ্তম সংশোধনী: ১৯৮২ থেকে ১৯৮৬ সাল পর্যন্ত সামরিক শাসনামলের বিভিন্ন আদেশ ও কর্মকাণ্ডকে বৈধতা দেওয়া হয়। ২০১০ সালে হাইকোর্ট এ সংশোধনী অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। অষ্টম সংশোধনী: ১৯৮৮ সালের ৭ জুন অষ্টম সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম ঘোষণা করা হয় এবং ঢাকার বাইরে হাইকোর্টের স্থায়ী বেঞ্চ স্থাপনের বিধান করা হয়। তবে স্থায়ী বেঞ্চসংক্রান্ত বিধান আদালতে বাতিল হয়। নবম সংশোধনী: ১৯৮৯ সালে নবম সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি ও উপরাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত বিধানে পরিবর্তন আনা হয়। রাষ্ট্রপতি পদে পরপর দুই মেয়াদের বেশি থাকার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়। পাশাপাশি উপরাষ্ট্রপতি পদে সরাসরি নির্বাচনের বিধান করা হয়। দশম সংশোধনী: ১৯৯০ সালের ১২ জুন দশম সংশোধনীর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৩০টি আসনের মেয়াদ আরও ১০ বছর বাড়ানো হয়। এর মাধ্যমে সংসদে নারীদের প্রতিনিধিত্বের জন্য সংরক্ষিত আসনের ব্যবস্থা বহাল রাখা হয়। খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারের আমলে পাস হয় একাদশ, দ্বাদশ, ত্রয়োদশ ও চতুর্দশ সংশোধনী।একাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট একাদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে ১৯৯০ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর তৎকালীন অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি বিচারপতি শাহাবুদ্দীন আহমদের দায়িত্ব পালন এবং তাঁর নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপকে সাংবিধানিক বৈধতা দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব শেষ করে তাঁর পুনরায় প্রধান বিচারপতির পদে ফিরে যাওয়ার পথও তৈরি করা হয়।দ্বাদশ সংশোধনী: ১৯৯১ সালের ৬ আগস্ট দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিশাসিত সরকারব্যবস্থার পরিবর্তে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীকে নির্বাহী বিভাগের প্রধান এবং রাষ্ট্রপতিকে রাষ্ট্রের সাংবিধানিক প্রধান করা হয়। মন্ত্রিসভাকে সংসদের কাছে দায়বদ্ধ করা হয়। একই সঙ্গে উপরাষ্ট্রপতির পদ বিলুপ্ত করা হয়। ত্রয়োদশ সংশোধনী: ১৯৯৬ সালের ২৬ মার্চ ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা প্রবর্তন করা হয়। জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিরপেক্ষভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে এ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছিল। ২০১১ সালে আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। তবে ২০২৫ সালে আপিল বিভাগের পুনর্বিবেচনার রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা পুনর্বহাল হয়। চতুর্দশ সংশোধনী: ২০০৪ সালের ১৬ মে চতুর্দশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৩০ থেকে বাড়িয়ে ৪৫টি করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অবসরের বয়স ৬৫ থেকে বাড়িয়ে ৬৭ বছর নির্ধারণ করা হয়। এ ছাড়া রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে প্রদর্শনের বিধান করা হয়। শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে পাস হয় পঞ্চদশ, ষোড়শ ও সপ্তদশ সংশোধনী। পঞ্চদশ সংশোধনী: ২০১১ সালের ৩০ জুন পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। একই সঙ্গে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে পুনঃস্থাপন, সংসদে নারীদের সংরক্ষিত আসন ৪৫ থেকে বাড়িয়ে ৫০টি করা। ২০২৪ সালে হাইকোর্ট সংশোধনীর কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাতিল করেন। ২০২৬ সালে আপিল বিভাগও হাইকোর্টের রায় বহাল রাখেন। ষোড়শ সংশোধনী: ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ষোড়শ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের অসদাচরণ বা অসামর্থ্যের কারণে অপসারণের ক্ষমতা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের পরিবর্তে জাতীয় সংসদের হাতে দেওয়া হয়। তবে ২০১৬ সালে হাইকোর্ট এবং ২০১৭ সালে আপিল বিভাগ এ সংশোধনীকে অসাংবিধানিক ঘোষণা করেন। সপ্তদশ সংশোধনী: ২০১৮ সালের ৮ জুলাই সপ্তদশ সংশোধনী পাস হয়। এর মাধ্যমে জাতীয় সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত ৫০টি আসনের মেয়াদ আরও ২৫ বছর বাড়ানো হয়। যার মাধ্যমে পরবর্তী ২৫ বছরের জন্য সংসদে নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসন বিদ্যমান রাখার পথ সুগম হয়। ১৯৭২ সালের ২২ মার্চ বাংলাদেশের গণপরিষদ আদেশের অধীনে নতুন গণপরিষদ গঠিত হয়। এরপর ওই বছরেই ৪ নভেম্বর বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়ন ও গ্রহণ করে এবং একই বছরের ১৬ ডিসেম্বর, প্রথম বিজয় দিবসে সংবিধানটি কার্যকর হয়। ১৯৭২ সালের ১১ এপ্রিল গঠিত ৩৪ জন সদস্য নিয়ে গঠিত হয় এ পরিষদ।
Leave a Reply