
বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ ‘এ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় ১০ দিন ব্যাপি বৃক্ষরোপন ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকাল সাড়ে নয়টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয় থেকে র্যালি বের হয়ে শহরের মুক্ত মঞ্চে এসে শেষ হয়। এরপর সেখানেই শুরু হয় মেলাটি উপলক্ষ্যে আলোচনা সভা। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকারের উপ-পরিচালক ও পৌর প্রশাসক শারমিন আক্তার। সভার আগে মেলা প্রাঙ্গনে গাছ রোপণের মধ্যদিয়ে মেলাটি শুভ সুচনা শুরু করা হয়। সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল আলম। মেলায় বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলা এবং বাংলাদেশ সবুজ বনায়ন রক্ষাসহ সবুজ বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগীয় প্রধান ড.মুন্সি আবু সাইফের সঞ্চালনায় সভার প্রধান অতিথি চুয়াডাঙ্গা-১ আসনের সংসদ সদস্য মাসুদ পারভেজ রাসেল বলেন, ‘আজকের বৃক্ষরোপণ ও বৃক্ষমেলার আয়োজন অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। জলবায়ু পরিবর্তন, তীব্র তাপপ্রবাহ, পরিবেশ দূষণ এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট আমাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই। তিনি আরও বলেন, ‘গাছ শুধু আমাদের অক্সিজেনই দেয় না, বরং পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা, মাটি সংরক্ষণ, বৃষ্টিপাত বৃদ্ধি এবং জীববৈচিত্র্য টিকিয়ে রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একটি গাছ মানে একটি জীবনের নিরাপত্তা, একটি পরিবারের কল্যাণ এবং একটি সবুজ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি।’ সভায় আরও বক্তব্য রাখেন, চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সিদ্দিকুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক শরীফুজ্জামান শরীফ, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদুর রহমান সরকার, প্রমুখ। এসময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) নয়ন কুমার রাজবংশী, আনসার ও ভিডিপির কমান্ডার রফিকুল ইসলাম, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) তিথি মিত্র, তথ্য অফিসার শিল্পী মন্ডল, প্রমুখ। মেলা উপভোগ করতে এসে এক শিক্ষার্থী রামিজ রায়হান বলেন, ‘আমি একজন শিক্ষার্থী ও বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে সকল বন্ধুদের প্রতি আহ্বান জানাছি প্রত্যেকে অন্তত একটি করে গাছ লাগাই এবং সেটিকে বড় হওয়া পর্যন্ত যত্ন করি। আমাদের ছোট ছোট উদ্যোগই একদিন সবুজে ঘেরা একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।’ বৃক্ষ প্রেমিক নাজমুল হাসান বলেন, ‘চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরা ও পরিবেশগত পরিবর্তনের প্রভাব আমরা প্রতিনিয়ত অনুভব করছি। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশি বেশি গাছ লাগানোর কোনো বিকল্প নেই। শুধু গাছ লাগালেই হবে না, সেগুলোর পরিচর্যাও নিশ্চিত করতে হবে।’সভার শেষে জানাগেছে, চুয়াডাঙ্গার বৃক্ষমেলায় ২১ স্টলে বিভিন্ন প্রকারের বনজ, ফলজ, ওষুধই গাছের চারা প্রদর্শন করা হয়েছে ।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply