
“দেশ গড়তে জুলাই জাগরণ” স্লোগানকে সামনে রেখে চুয়াডাঙ্গায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা শাখার উদ্যোগে এক পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচিতে এনসিপির কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত থেকে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নির্বাচনী ব্যবস্থার নিরপেক্ষতা এবং গণভোটের রায় বাস্তবায়নের পক্ষে জোরালো বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় নাগরিক পার্টি চুয়াডাঙ্গা জেলা শাখার আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লব। সভাটি যৌথভাবে সঞ্চালনা করেন জেলা এনসিপির সদস্য সচিব আলমগীর হোসেন এবং জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্য সচিব মো. আলী রুশদী মজনু। পথসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় সদস্য সচিব আখতার হোসেন (এমপি)। তিনি স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও সাংগঠনিক কাঠামোর বিষয়টি তুলে ধরে আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির আহ্বায়ক খাজা আমিরুল বাশার বিপ্লবকে দলীয় চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে আখতার হোসেন বলেন, “গণভোটের রায় সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে আমরা একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে পাব এবং সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্বের (পিআর) ভিত্তিতে সংসদে উচ্চকক্ষ গঠিত হবে।” তিনি সরকারকে কোনো প্রকার কালক্ষেপণ বা টালবাহানা না করে জনগণের দেওয়া গণভোটের রায় দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। এ সময় তিনি নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনে দলীয় লোক নিয়োগের অভিযোগ এনে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দাবি জানান। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ (এমপি) প্রশাসনিক ও নির্বাচনী ব্যবস্থার সমালোচনা করে বলেন, “নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে পুলিশ সংস্কার কমিশন গঠনের প্রতিশ্রুতি থাকলেও বাস্তবে তা করা হয়নি। প্রশাসন ও পুলিশ বাহিনীকে দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা হচ্ছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান ও সিটি কর্পোরেশনগুলোতে দলীয় নেতাকর্মীদের বসিয়ে জনগণের ওপর চাপিয়ে দিচ্ছে। স্থানীয় পরিস্থিতির উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে প্রায় ৬০ হাজার ভোটে প্রত্যাখ্যাত এক ব্যক্তিকে চুয়াডাঙ্গা জেলা পরিষদের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। দলের যুগ্ম আহ্বায়ক সরওয়ার তুষার তাঁর বক্তব্যে বলেন, “বর্তমান সরকারকে অবিলম্বে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করতে হবে।” বিজয়ের পর জনগণের অভিপ্রায়ের তোয়াক্কা না করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে পুনরায় দলীয়করণের চর্চা শুরু হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন। পথসভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির পশ্চিমাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ডা. মাহমুদা মিতু (এমপি), মুখ্য সংগঠক নুসরাত তাবাসসুম (এমপি), যুগ্ম আহ্বায়ক আলী আহসান জুনায়েদ এবং যুগ্ম সদস্য সচিব মোল্লা মোহাম্মদ ফারুক এহসান। এতে চুয়াডাঙ্গা জেলা এনসিপির বিভিন্ন স্তরের নেতাকর্মী, সমর্থক ও স্থানীয় সাধারণ জনগণ অংশগ্রহণ করেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply