
বর্তমান সময়ে আমরা তথ্য সন্ত্রাসের যুগে বসবাস করছি। তথ্য যেমন মানুষকে সমৃদ্ধ করে, তেমনি ভুল ও অপতথ্য সমাজ ও মানুষের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই অপতথ্য ও গুজব থেকে বাঁচতে আমাদের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হলো ‘ফ্যাক্ট চেকিং’ বা তথ্য যাচাই। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত আজ বুধবার বেলা ১১টায় চুয়াডাঙ্গায় জেলা পরিষদের হলরুমে সাংবাদিকদের মাল্টিমিডিয়া, ফ্যাক্ট-চেক, গুজব ও অপতথ্য প্রতিরোধ বিষয়ক তিনদিনের প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক (ডিসি) লুৎফুন নাহার। জেলা প্রশাসক তাঁর বক্তব্যে তথ্যের বিকৃতির একটি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “একটি কথা ছড়াতে ছড়াতে কীভাবে কৃষ্ণবর্ণের কন্যা শেষ পর্যন্ত সাধারণ মানুষের কাছে ‘কাক’ হয়ে যায়, তা আমরা সবাই জানি। যেকোনো সংবাদ প্রচারের আগে তথ্যটির সত্যতা বা গভীরতা কতটুকু, তা যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি। তথ্যের ভেতরের আসল সত্যটি যেন কখনো আড়াল না হয়।” সংবাদকর্মীদের দায়িত্বশীলতার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি আরও বলেন, “অনেক সময় বিভিন্ন মাধ্যমে নানা ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ায়। সাংবাদিকতার স্বার্থেই যেকোনো তথ্য প্রচার বা লেখার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষের সাথে ‘ক্রস চেক’ বা পুনঃযাচাই করে নেওয়া উচিত। এতে ভুল বোঝাবুঝি ও বিভ্রান্তি অনেকটাই এড়িয়ে চলা সম্ভব।” অনুষ্ঠানে পিআইবি (প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ) এর মাধ্যমে জেলায় এ ধরনের পেশাদারিত্ব উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণের পরিধি এবং অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করার তাগিদ দেন জেলা প্রশাসক। সবশেষে তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে বলেন, “আসুন আমরা সবসময় সত্য, সৎ এবং ন্যায়ের পক্ষে থাকি। কোনো অন্যায়ের সাথে যেন আমরা আপস না করি। তবেই আপনাদের সাংবাদিক জীবন এবং সাংবাদিকতা সার্থক হবে।” এরপর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সভাপতি নাজমুল হক স্বপন। বক্তব্য রাখেন চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি দৈনিক মাথাভাঙ্গার সম্পাদক ও প্রকাশক সরদার আল আমিন, সাবেক সভাপতি রাজিব হাসান কচি, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাহ আলম সনি, বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চুয়াডাঙ্গা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক হুসাইন মালিক প্রমুখ। ট্রেইনার হিসেবে ছিলেন পিআইবির প্রশিক্ষক সাহানোায়ার সাঈদ শাহীন ও তৌসিফ আকবর।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply