
দেশের বিচারিক ইতিহাসে এক অনন্য নজির সৃষ্টি করে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার রায় ঘোষণা করা হয়েছে। মেহেরপুরে ১১ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের দায়ে শাকিল হোসেন (২৬) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সাথে তাকে ১ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম সশরীরে উপস্থিতির পাশাপাশি ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে ভিডিও কলের মাধ্যমে মাত্র ৩ দিনে দ্রুততম সময়ে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। আজ রোববার (২৪ মে) দুপুর দেড়টার সময় মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের আব্দাল হাসানের ছেলে। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন। মামলার বিবরণ ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনী উপজেলার চাঁদপুর গ্রামের পঞ্চম শ্রেণিতে পড়ুয়া এক শিশু তার বাবাকে বাড়ির পাশের মাঠে খাবার দিতে যাচ্ছিল। পথে একই গ্রামের শাকিল হোসেন শিশুটিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে একটি পাটক্ষেতে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। পরে শিশুটি বাড়িতে ফিরে পরিবারকে বিষয়টি জানালে, তার বাবা এসনুল হক বাদী হয়ে গাংনী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ তাৎক্ষণিক অভিযান চালিয়ে আসামিকে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠায়। আদালত সূত্র আরও জানায়, বিচার প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে মাত্র ২৯ কার্যদিবসের মধ্যে ১১ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন করা হয়। এর মধ্যে বেশ কয়েকজন দূরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্য সশরীরে উপস্থিতির ঝামেলা এড়াতে আদালতের বিশেষ অনুমতিতে ভার্চুয়ালি ভিডিও কলের মাধ্যমে নেওয়া হয়। দীর্ঘ শুনানি ও তথ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ শেষে আসামির বিরুদ্ধে অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মারুফ আহমেদ বিজন। ঐতিহাসিক এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে ধর্ষিত শিশুর পরিবার সাংবাদিকদের জানায়, তারা দ্রুততম সময়ে সঠিক বিচার পেয়েছেন। তবে দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেনের আইনজীবী জানান, এই রায়ের বিরুদ্ধে তারা উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply