1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@cnbtvbd.com : admin :
May 24, 2026, 10:50 pm

আলমডাঙ্গায় ভ্যান চুরির অভিযোগে যুবককে তুলে নিয়ে পিটিয়ে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : সোমবার, মে ১৮, ২০২৬
  • 39 Time View
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার আসাননগর গ্রামে ভ্যান চুরির অভিযোগকে কেন্দ্র করে দুদু (২৩) নামের এক যুবককে সিনেমার কায়দায় তুলে নিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রবিবার (১৭ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার হাউসপুর ব্রিজ এলাকায় এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে। নিহত দুদু আসাননগর গ্রামের মিজানুরের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক; যার মধ্যে ছোট সন্তানের বয়স মাত্র চার মাস। বাবার মুখটি ভালোভাবে চেনার আগেই শিশুটির মাথা থেকে সরে গেল পিতার ছায়া।
 স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার রাতে হাউসপুর গ্রামের হাফিজুরের ছেলে অন্তুরের একটি ভ্যান চুরি হয়। এলাকাবাসীর দাবি, আলমডাঙ্গা অঞ্চলে চুরি হওয়া ভ্যান ও মোটরসাইকেল সাধারণত কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার পোড়াদহ এলাকায় বিক্রি করা হয়। সেই সূত্র ধরে অন্তর কয়েকজন সঙ্গী নিয়ে পোড়াদহে ভ্যানের খোঁজে যান। অভিযোগ উঠেছে, সেখানে অন্তরদের উপস্থিতি টের পেয়ে দুদু একটি ভ্যান নিয়ে পালিয়ে যান। এরপর থেকেই তার ওপর নেমে আসে ভয়ঙ্কর প্রতিশোধের ছায়া।
রবিবার সকালে সুমন, আশিক, বায়েজিদ, রফিক ও শাকিলসহ কয়েকজনকে নিয়ে অন্তর দুদুর বাড়িতে যান বলে অভিযোগ রয়েছে। সে সময় দুদুর মাকে হুমকি দিয়ে বলা হয়, ‘যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করা হবে।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, রবিবার রাত ৯টার দিকে সংঘবদ্ধ চক্রটি দুদুকে কুমার নদের আসাননগর ঘাট এলাকা থেকে জোরপূর্বক তুলে হাউসপুর ঈদগাহ মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে তাকে ঘিরে চলে নির্মম মারধর। অসহায় যুবকের আর্তচিৎকার রাতের অন্ধকারে মিলিয়ে গেলেও থামেনি নির্যাতন।
পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে আলমডাঙ্গার আনন্দধামের শরিফুল ক্লিনিকে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্তরা দ্রুত লাশ নিয়ে হাউসপুর বটতলা এলাকায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায় বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই নৃশংস ঘটনার পর পুরো এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। আইন নিজের হাতে তুলে নিয়ে এ ধরনের হত্যাকাণ্ডকে চরম বর্বরতা বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সচেতন মহল। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)  বানী ইসরাইল বলেন,
“আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যে কোনো অপরাধের বিচার আইনের মাধ্যমেই হতে হবে। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশ কাজ করছে।”
সাম্প্রতিক সময়ে সন্দেহ কিংবা সামান্য বিরোধকে কেন্দ্র করে মানুষ হত্যার প্রবণতা ভয়াবহভাবে বেড়ে চলেছে। সামাজিক সহনশীলতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি প্রতিশোধপ্রবণতা ও আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়ার মানসিকতা সমাজকে অস্থির করে তুলছে। একটি অভিযোগ সত্য না মিথ্যা—তা যাচাইয়ের দায়িত্ব আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর। কিন্তু অনেকেই মুহূর্তের উত্তেজনায় জল্লাদের ভূমিকায় অবতীর্ণ হচ্ছেন। ফলে হারিয়ে যাচ্ছে মানবিকতা, আর অসহায় পরিবারগুলো মুহূর্তেই পরিণত হচ্ছে শোকের জনপদে।
Show quoted text

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost