সারাদেশে চলমান জ্বালানি সংকটের মধ্যে মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় বিঘ্নিত হচ্ছে টহল, অপরাধ দমন ও জরুরি অভিযান। এই পরিস্থিতি নিরসনে দেশের সকল পেট্রোল পাম্পে পুলিশ সদস্যদের জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আলাদা লাইন বা বিশেষ বুথ চালুর দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন। শুক্রবার সংগঠনের সভাপতি কামরুল হাসান তালুকদার ও সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু স্বাক্ষরিত এক পত্রে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর এই দাবি জানানো হয়।
লিখিত আবেদনে বলা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, ভিআইপি নিরাপত্তা, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগকালীন সেবার মতো জরুরি কাজে পুলিশকে ২৪ ঘণ্টা নিয়োজিত থাকতে হয়। সরকারি গাড়ি ছাড়াও অনেক সময় ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল নিয়ে সদস্যদের দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে হয়। কিন্তু বর্তমানে পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংগ্রহের দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকায় পুলিশের মূল্যবান কর্মঘণ্টা নষ্ট হচ্ছে, যা জননিরাপত্তার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, জরুরি প্রয়োজনে অনেক সময় লাইনের বাইরে গিয়ে তেল নিতে গেলে পুলিশ সদস্যরা জনঅসন্তোষ এবং এমনকি ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানারও সম্মুখীন হচ্ছেন। সম্প্রতি চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় ইউনিফর্ম পরিহিত অবস্থায় এক পুলিশ সদস্যকে তেল নিতে গিয়ে ৫০০ টাকা জরিমানা করার ঘটনাটি এই দাবির সপক্ষে জোরালো ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মনিরুল হক ডাবলু বলেন, প্রতিটি মিনিট যেখানে গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে জ্বালানি পেতে বিলম্ব মানেই সেবায় বিলম্ব। জরুরি সেবা সচল রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা না নিলে সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর প্রভাব পড়তে পারে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৯ মার্চ জেলা প্রশাসনের এক সভায় পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও সাংবাদিকদের বিকল্প লাইনে তেল নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক জরিমানার ঘটনায় সেই সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
পুলিশ অ্যাসোসিয়েশন মনে করে, সরকারি পরিচয়পত্র প্রদর্শন সাপেক্ষে আলাদা লাইনে জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা করা হলে পুলিশের কর্মতৎপরতা বৃদ্ধি পাবে এবং অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হবে। এই বিষয়ে দ্রুত কার্যকর নির্দেশনা ও বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের প্রতি জোর দাবি জানানো হয়েছে।
Leave a Reply