
সমাজকল্যাণমন্ত্রী ও বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ.জেড.এম. জাহিদ হোসেন বলেছেন, মাদক, জুয়া, সন্ত্রাস ও সামাজিক অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে হলে প্রশাসনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষকেও এগিয়ে আসতে হবে। সমাজের প্রতিটি স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে এসব অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলায় আয়োজিত এক জনসভা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, আমি সব সময় মাদকের বিরুদ্ধে কথা বলি। মাদক একটি জাতিকে ধ্বংস করে দেয়, একটি পরিবারকে নিঃস্ব করে দেয় এবং তরুণ প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নষ্ট করে। যারা মাদক ব্যবসা করে, মাদক সেবন করে কিংবা অনলাইনে-অফলাইনে জুয়ার আসর বসিয়ে সমাজকে বিপথে পরিচালিত করছে, তাদের বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, কোনো গ্রাম, ইউনিয়ন বা ওয়ার্ডে যেন মাদক ব্যবসা, জুয়ার আসর কিংবা অন্য কোনো সামাজিক অপরাধের কেন্দ্র গড়ে উঠতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনকে একযোগে কাজ করতে হবে। অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়ার চেয়ে অপরাধ প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সমাজকল্যাণমন্ত্রী আরও বলেন, অন্যায়কারী যত শক্তিশালীই হোক না কেন, তার বিরুদ্ধে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখতে হবে, অন্যায়ের শক্তি সাময়িকভাবে প্রভাব বিস্তার করতে পারলেও সত্য ও ন্যায়ের কাছে শেষ পর্যন্ত পরাজিত হয়। আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো অপরাধীই সমাজে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে না। তিনি বলেন, ভালো মানুষের সঙ্গে খারাপ মানুষের কখনো সমঝোতা হতে পারে না। সমাজের শান্তি, শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের স্বার্থে ভালো মানুষদের আরও বেশি সংগঠিত হতে হবে। সমাজকে অপরাধমুক্ত রাখতে সচেতন নাগরিকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, দেশকে এগিয়ে নিতে হলে শুধু অর্থনৈতিক উন্নয়নই যথেষ্ট নয়, নৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নও নিশ্চিত করতে হবে। তরুণ প্রজন্মকে মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের পথ থেকে দূরে রেখে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চায় উদ্বুদ্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান যে মানবিক, আধুনিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছেন, সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। রাজনৈতিক মতভেদ থাকতে পারে, কিন্তু দেশের স্বার্থে, সমাজের স্বার্থে এবং আগামী প্রজন্মের স্বার্থে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সামাজিক অবক্ষয় রোধে প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, অভিভাবক, ধর্মীয় নেতা এবং সচেতন নাগরিকদের সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সুন্দর সমাজ গঠনের দায়িত্ব শুধু সরকারের নয়, এটি আমাদের সবার। সবাই মিলে কাজ করলে একটি নিরাপদ, মানবিক ও কল্যাণমুখী বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply