
চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলা আইসিটি অফিসার ও মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মরহুম মাহমুদুর রহমান (মাহমুদ)-এর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টায় চুয়াডাঙ্গা প্রেসক্লাবে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে মানবাধিকার সংস্থা ‘মানবতা ফাউন্ডেশন’।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানবতা ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট খন্দকার অহিদুল আলম (মানি খন্দকার)। তিনি জানান, গত ১৯ জুন সকালে জীবননগর উপজেলার আশতলাপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে আইসিটি কর্মকর্তা মাহমুদুর রহমানের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই ঘটনার পর নিহতের বাবা, মৎস্য বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আতাউর রহমান বাদী হয়ে জীবননগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় মাহমুদের স্ত্রী নাসরিন আক্তার ইতি, শ্যালক জাহাঙ্গীর আলম, শাশুড়ি জাহানারা খাতুন এবং স্ত্রীর দুলাভাই নাহিদ হোসেনসহ ৪ জনকে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে আসামি করা হয়।
অ্যাডভোকেট অহিদুল আলম আরও জানান, নিহতের পরিবার গত ২৪ জুন আইনি সহায়তার জন্য মানবতা ফাউন্ডেশনের দ্বারস্থ হয়। পরিবারের অভিযোগ, ঘটনার পর থানা পুলিশ তদন্তে চরম গাফিলতি ও উদাসীনতা দেখিয়েছে। পরবর্তীতে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশ সুপারের (এসপি) বিশেষ নির্দেশে মামলাটির তদন্তভার জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয়, মাহমুদুর রহমানের সঙ্গে তার স্ত্রীর দীর্ঘদিন ধরে তীব্র পারিবারিক কলহ চলছিল। স্ত্রী ও তার পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন সময় মাহমুদকে মানসিক ও শারীরিকভাবে চরম নির্যাতন করতেন। এমনকি ঘটনার আগের রাতে এবং ঘটনার দিন সকালেও তাদের মধ্যে মারাত্মক বাগ্বিতণ্ডা হয়েছিল বলে দাবি করে নিহতের পরিবার।
এছাড়া, নিহতের স্ত্রীর গর্ভে থাকা সন্তানের পিতৃত্ব নিয়েও পরিবারটি গভীর সন্দেহ প্রকাশ করেছে এবং এই বিষয়টিও সুনির্দিষ্ট তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়েছে। এটি আসলেই আত্মহত্যা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো অপরাধ বা গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে—তা একটি সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ ও প্রভাবমুক্ত তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা প্রয়োজন বলে সংবাদ সম্মেলনে জোর দাবি তোলা হয়। সংবাদ সম্মেলন থেকে চুয়াডাঙ্গা জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশকে সব দিক বিবেচনায় নিয়ে নিরপেক্ষভাবে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে, ঘটনার পেছনের সত্য উন্মোচন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে গণমাধ্যমকর্মীদের তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন মাহমুদুর রহমানের পিতা আতাউর রহমান, মা হাসিনারা নার্গিস, বোন মেহেনাজ আক্তার মিতা, মানবতা ফাউন্ডেশনের সভাপতি রওফুন নাহার রিনা প্রমুখ।
উল্লেখ্য, মামলাটির তদন্ত বর্তমানে চলমান রয়েছে। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগ ও সন্দেহের সত্যতা এবং অভিযুক্তদের বক্তব্য এখনো তদন্তাধীন রয়েছে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply