1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. admin@cnbtvbd.com : admin :
June 19, 2026, 11:41 am

কেরুর মদের চালানে মাদক পরিদর্শকের স্বাক্ষর-হাজিরা জালিয়াতি

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : রবিবার, জুন ৭, ২০২৬
  • 57 Time View

রাষ্ট্রীয় মদ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান দর্শনা কেরু অ্যান্ড কোম্পানিতে মদের চালান তদারকির দায়িত্বে থাকা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের এক পরিদর্শকের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

অভিযোগ রয়েছে, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকেও হাজিরা খাতায় উপস্থিতি দেখানো, ছুটিতে থাকাকালে মদের চালানপত্রে স্বাক্ষর এবং আগাম সাদা ভাউচারে সই করে রাখার মতো কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন তিনি। এসব অভিযোগে প্রশ্নের মুখে পড়েছে রাষ্ট্রীয় এ প্রতিষ্ঠানের তদারকি ব্যবস্থা। ঘটনা সামনে আসার পর সংশ্লিষ্ট পরিদর্শককে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়েছে এবং গঠন করা হয়েছে তদন্ত কমিটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানটির কেন্দ্রীয় গুদাম থেকে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে মদ সরবরাহের ক্ষেত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের অনুমোদন ও তদারকি বাধ্যতামূলক। এ দায়িত্বে ছিলেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের পরিদর্শক শাহজালাল খান।

তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৮ ও ১৯ মে শাহজালাল খান নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। অথচ ১৯ মে কেরু অ্যান্ড কোম্পানি থেকে ঢাকার মতিঝিলে এক হাজার বক্স বিদেশি মদের একটি চালান পাঠানো হয়, যার কাগজপত্রে তার স্বাক্ষর রয়েছে। একই সময়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হাজিরা খাতায় তাকে অনুপস্থিত দেখানো হয়েছে।

অভিযোগ রয়েছে, শুধু ওই ঘটনাই নয়, কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার সময়েও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ চালানপত্র ও ভাউচারে আগাম স্বাক্ষর করে রাখতেন তিনি। পরে প্রয়োজন অনুযায়ী সেসব নথি ব্যবহার করা হতো। সংশ্লিষ্টদের মতে, এমন প্রক্রিয়া প্রশাসনিক দুর্বলতা তৈরি করে এবং রাজস্ব ফাঁকি বা অনিয়মের ঝুঁকি বাড়ায়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কেরুর চালানপত্রে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর একটি গুরুত্বপূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা উপস্থিত না থেকেও যদি স্বাক্ষরিত নথি ব্যবহৃত হয়ে থাকে, তাহলে পুরো তদারকি প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এদিকে অভিযোগ সামনে আসার পর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর বিষয়টি আমলে নেয়। অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মোহাম্মদ শামছুল আলমকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত দল এরইমধ্যে চুয়াডাঙ্গা জেলা কার্যালয়, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি এবং সংশ্লিষ্ট স্থানগুলো পরিদর্শন করেছে। তদন্ত চলাকালেই গত ১ জুন পরিদর্শক শাহজালাল খানকে ঢাকায় সংযুক্ত (ক্লোজড) করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে বিভাগীয় পর্যায়েও পৃথক তদন্ত হতে পারে। কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক (ডিস্টিলারি) রাজিবুল হাসান বলেন, চালান প্রক্রিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধির স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়। অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তের মাধ্যমেই যাচাই হওয়া উচিত। তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন পরিদর্শক শাহজালাল খান। তিনি বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। দায়িত্ব পালনে কোনো অনিয়ম করেননি এবং তদন্তেই প্রকৃত বিষয় স্পষ্ট হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost