
দিনাজপুরের নবাবগঞ্জে লোকসানের শঙ্কা নিয়েও আগাম আলু চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। মৌসুমের শুরুতে বাজারে ভালো দাম পাওয়ার আশায় আগেভাগেই জমি প্রস্তুত করে আলু রোপণ করছেন তাঁরা। তবে বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন কৃষকেরা। আবহাওয়া অনুকূলে থাকা এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা চাষাবাদ চালিয়ে যাচ্ছেন।উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে নবাবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে আগাম জাতের আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা ৩৫০ হেক্টর। আগাম আলুসহ মোট আলু উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার ৫০০ মেট্রিক টন। উপজেলার পদুমহার গ্রামের কৃষক ওবায়দুল ইসলাম বলেন, আগাম আলু চাষে খরচ অনেক। বীজ, সার, কীটনাশক ও জমি তৈরিতে প্রচুর টাকা ব্যয় করতে হয়। মৌসুমের শুরুতে দাম ভালো পেলে লাভের সম্ভাবনা রয়েছে। কিন্তু বাজারদর কমে গেলে লোকসান গুনতে হবে। তারপরও লাভের আশায় আলু চাষ করছি। নলেয়া গ্রামের কৃষক আমজাদ হোসেন বলেন, আগাম আলু বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়ার আশা থাকে। তবে আবহাওয়া ও বাজারদরের ওপর অনেক কিছু নির্ভর করে। দিন দিন চাষের খরচ বাড়ছে। আলুর ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা গেলে কৃষকেরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ইলিয়াস জানান, প্রতিবছরের মতো এবারও নবাবগঞ্জে আগাম আলু চাষ শুরু হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় ১৫০ হেক্টর জমিতে আগাম জাতের আলু রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। আগাম আলু ৬০ থেকে ৬৫ দিনের মধ্যে উত্তোলন করে বাজারজাত করা যায়। ফলে কৃষকেরা মৌসুমের শুরুতে ভালো দাম পাওয়ার সুযোগ পান। তিনি আরও জানান, উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের সার্বক্ষণিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এ বছর আলুর ভালো ফলনের ব্যাপারে তাঁরা আশাবাদী।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply