
চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় পুলিশের হাতে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার পর থেকে ছিদ্দিক মেম্বারকে উদ্ধারে দফায় দফায় অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। এ ঘটনায় হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে দুই নারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিদ্দিক মেম্বার ও তার সঙ্গে থাকা কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। উদ্ধার হয়নি পুলিশের হাতকড়াটিও।
জানা গেছে, বুধবার রাত ৮টার দিকে দর্শনা থানার পুলিশ দর্শনা পৌর এলাকার কুড়ুলগাছি ইউনিয়নের চণ্ডীপুর হালদারপাড়ায় অভিযান চালায়। এ সময় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবু ছিদ্দিককে (৫৪) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে তার হাতে হাতকড়া পরানো হয়।
পুলিশের অভিযোগ, ছিদ্দিককে গ্রেপ্তারের পরপরই স্থানীয় কয়েকজন নারী-পুরুষ ও তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে তাকে ছিনিয়ে নেন। এ সময় হাতকড়াসহ ছিদ্দিক মেম্বারকে পুলিশের কাছ থেকে নিয়ে যাওয়া হয়।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দামুড়হুদা-জীবননগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ও দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)। পরে অতিরিক্ত পুলিশ নিয়ে এলাকায় অভিযান শুরু করা হয়।
পুলিশের ওপর হামলা এবং হাতকড়াসহ গ্রেপ্তার আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে চণ্ডীপুর হালদারপাড়ার রবির ছেলে লক্ষ্মণ, সেলিমের ছেলে ফিরোজ, সঞ্জয়ের স্ত্রী কণা ও সনজিতের স্ত্রী সোনালীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ছিদ্দিক মেম্বারকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন দর্শনা থানার ওসি। চণ্ডীপুরের একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, আবু ছিদ্দিক ইউনিয়ন পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতা হলেও এলাকায় তার প্রভাব ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি এলাকা ছেড়ে চলে যান। কিছুদিন আগে তিনি এলাকায় ফিরে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান।
হাতকড়াসহ একজন গ্রেপ্তার আসামিকে পুলিশের কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে ছিদ্দিক মেম্বারকে গ্রেপ্তার এবং পুলিশের হাতকড়া উদ্ধারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply