
চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার শ্যামপুর গ্রামে কুমার নদের ওপর নির্মাণাধীন ব্রিজের গার্ডারে ঢালাইয়ের মাত্র ১৫ দিনের মাথায় ফাটল দেখা দিয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের বিভিন্ন স্থানে দেখা দেওয়া ফাটল কৌশলে প্লাস্টার দিয়ে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ধীরগতিতে নির্মাণকাজ চলায় শ্যামপুর, দুর্লভপুরসহ আশপাশের ১৪ গ্রামের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই ব্রিজে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৪৫ বছর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ড চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার কুমারি ইউনিয়নের শ্যামপুর গ্রামে কুমার নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ করে। কয়েক বছর ধরে পুরোনো ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় সেটি দিয়ে পথচারী ও ছোট যানবাহন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে। এ অবস্থায় পুরোনো ব্রিজের স্থলে নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। ২০২৪ সালের ১৭ এপ্রিল নতুন ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হয়। চুক্তি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ১৬ এপ্রিল কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল। পরে নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত আরও ছয় মাস সময় বাড়ানো হলেও নির্মাণকাজ চলছে ধীরগতিতে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রিজের গার্ডারে ঢালাই দেওয়ার প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই ফাটল দেখা দিয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন স্থানে থাকা ফাটল প্লাস্টার করে ঢেকে দেওয়া হচ্ছে। নির্মাণকাজে ব্যবহৃত রডেও মরিচা ধরেছে বলে অভিযোগ করেছেন তারা। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি কাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা। উইকেয়ার প্রকল্পের আওতায় শ্যামপুর গ্রামে কুমার নদের ওপর প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে ২৫ মিটার দৈর্ঘ্যের পিসি গার্ডার ব্রিজ নির্মাণের কথা রয়েছে। যশোরের মইনুদ্দিন বাঁশি নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ব্রিজটির নির্মাণকাজ করছে। স্থানীয়রা জানান, শ্যামপুর গ্রামের এই ব্রিজ দিয়ে প্রতিদিন ট্রাক, লেগুনা, আলমসাধুসহ বিভিন্ন ধরনের প্রায় ২৭০টি ছোট-বড় যানবাহন এবং প্রায় ১১ হাজার মানুষ চলাচল করেন। নির্মাণকাজ শেষ না হওয়ায় এবং পুরোনো ব্রিজটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় তাদের নিয়মিত দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে। স্থানীয় একাধিক ব্যক্তি অভিযোগ করে বলেন, ব্রিজ নির্মাণকাজে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। অনিয়মের বিষয়ে কেউ কথা বললে তাকে ভয়ভীতি দেখানো হয়। কাজ শেষ হওয়ার আগেই গার্ডারে ফাটল দেখা দেওয়ায় ব্রিজটির স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন। ফাটলগুলো প্লাস্টার করে আড়াল না করে বিষয়টি তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তারা। এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী শহিদুজ্জামান বলেন, “ব্রিজে ফাটল ধরেছে। বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিয়ে দেখছি। কাজে কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ব্রিজে আগেই ফাটল ধরা পড়ায় ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব হবে। সমস্যাগুলো সমাধানে আমরা কাজ করছি।” নির্মাণকাজ শেষ হলে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘব হবে বলেও জানান এই কর্মকর্তা।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply