1. online@cnbtvbd.com : বার্তা বিভাগ : বার্তা বিভাগ
  2. wpsvc_6eb0338d2040@wordpress-svc.internal : wpsvc_6eb0338d2040 :
  3. admin@cnbtvbd.com : admin :
July 28, 2026, 2:54 am

রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির পদত্যাগ করছেন

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, জুলাই ২৩, ২০২৬
  • 18 Time View

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন খুব শিগগির পদত্যাগ করছেন। সরকারের একটি দায়িত্বশীল সূত্র এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) ওই সূত্রটি জানায়, সরকার ও সরকারি দল বিএনপির উচ্চপর্যায় থেকে নতুন রাষ্ট্রপতি মনোনয়নের বিষয়টি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিচ্ছে। মনোনয়নে দেরি হলে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। বর্তমান রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন যে খুব শিগগিরই পদত্যাগ করছেন এটি নিয়ে আর কোনো সংশয় নেই। সরকারের ওই সূত্রটি জানায়, কে পরবর্তী রাষ্ট্রপতি পদে আসছেন এটি এখনই নিশ্চিত করে জানা যায়নি। তবে সাধারণত সরকারি দলের বিশ্বস্ত কেউ এই পদে নিয়োগ পেয়ে থাকেন। সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সূত্র জানিয়েছেন, আগামী ৬ সে‌প্টেম্ব‌র রোববার জাতীয় সংস‌দের তৃতীয় অধিবেশন বস‌বে। সেখা‌নেই নির্বা‌চিত হ‌বেন দে‌শের পরবর্তী রাষ্ট্রপ‌তি।সূত্রটি জানায়, রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপ‌তি হ‌বেন বর্তমান স্পিকার মেজর (অব.) হা‌ফিজ উদ্দিন আহমদ। নির্ভরযোগ্য দুটি সূত্রের একটিও নাম প্রকাশ করতে রাজি হয়নি। রাষ্ট্রপতি অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। যদিও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের বিষয়ে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত বঙ্গভবন বা সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য বা ঘোষণা পাওয়া যায়নি। তবে বঙ্গভবনকেন্দ্রিক একটি সূত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রপতি নিজে তার অধস্তন কর্মীদের শিগগিরই বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। ওই সূত্রের ভাষ্য, পদত্যাগের পর তিনি কিছুদিন বিশ্রামে থাকবেন। চিকিৎসার জন্য বিদেশেও যেতে পারেন। উল্লেখ্য, মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। সাংবিধান অনুযায়ী, তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিলে। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় পরিবর্তন আসে। সেই সময় ফ্যাসিবাদী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে দেশ ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে সংসদ বিলুপ্ত, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক প্রক্রিয়াগুলোতে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মো. সাহাবুদ্দিন। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি তুলেছিলেন আন্দোলনকারী ছাত্রনেতারা। তার পদত্যাগ দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালন করে জুলাই আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। শোনা যায় সাংবিধানিক শূন্যতার আশঙ্কায় তখন বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ চায়নি। তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।এরপর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি এক সংবাদপত্রকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সাহাবুদ্দিন বলেন, সরকার চাইলে তিনি দায়িত্বে থাকবেন, অন্যথায় স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন।সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। ৫৪ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে তিনি দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। ক্ষমতাসীন বিএনপির সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় দলটির মনোনীত ব্যক্তিরই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি সরকার গঠন করলেও রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। যদিও সরকার পরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল, সরকার বা বিএনপি প্রকাশ্যে কখনো তার পদত্যাগ দাবি করেনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করলে গণঅভ্যুত্থান এবং পরবর্তী জাতীয় নির্বাচনের পর দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন ঘটবে। একই সঙ্গে সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো নিজেদের মনোনীত একজনকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে বিএনপি। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকায়, কে হচ্ছেন দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি—তা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

Design By Raytahost