
পুকুর খননের অনুমতির আড়ালে কৃষিজমির উর্বর মাটি কেটে ইটভাটায় বিক্রির অভিযোগে আলমডাঙ্গার শ্রীরামপুর মাঠে অভিযান চালিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। এ সময় অনুমতি ছাড়া মাটি কাটার দায়ে মাটি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ভাই হাসিবুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। একই সাথে মাটি কাটার কাজে ব্যবহৃত একটি এক্সেভেটর (ভেকু) চালকসহ মাটি বহনের ৪টি লাটাহাম্বার আটক করা হয়। পরে জরিমানার অর্থ পরিশোধ করলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়।
শনিবার (২০ জুন) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কালিদাসপুর ইউনিয়নের শ্রীরামপুর মাঠে এ অভিযান পরিচালনা করেন আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহীনূর আক্তার। অভিযানে পাইকপাড়া ক্যাম্প পুলিশের একটি দল সহযোগিতা করে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার মাজিলা গ্রামের মাটি ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান শ্রীরামপুর গ্রামের কয়েকটি পুকুর খননের কাজ নেন। তবে পুকুর খননের নিয়ম-নীতি তোয়াক্কা না করে, ফসলি মাঠের মাটি কেটে অবৈধভাবে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটায় বিক্রি করা হচ্ছিল। এমন খবর পেয়ে প্রশাসনের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাটি কাটা ও পরিবহনের কাজ বন্ধ করে দেয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমানের ভাই হাসিবুল ইসলামকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীরামপুরের মাঠে এ দৃশ্য কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; এটি এলাকার মাটি বাণিজ্যের পুরোনো বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। পুকুর খনন, জমি সমতলকরণ কিংবা বিভিন্ন উন্নয়নকাজের অজুহাতে কৃষিজমির উর্বর উপরিভাগের (টপ সয়েল) মাটি চলে যাচ্ছে ইটভাটার চুল্লিতে। ফলে ফসলি মাঠে তৈরি হচ্ছে গভীর গর্ত, যা জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট করছে এবং কৃষির ভবিষ্যৎকে হুমকির মুখে ফেলছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মাটি বিক্রির ব্যবসা অত্যন্ত লাভজনক হওয়ায় প্রশাসনের অভিযান ও জরিমানার পরও থামছে না একটি সিন্ডিকেটের তৎপরতা। এই ব্যবসার পেছনে মাঠপর্যায়ে কিছু মধ্যস্বত্বভোগী ও দালাল চক্র জড়িত। তারা জমির মালিক, ঠিকাদার, ইটভাটা ও পরিবহনকারীদের মধ্যে মধ্যস্থতা করে এই অবৈধ বাণিজ্য সচল রাখছে। এমনকি প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার নামেও তারা অর্থ হাতিয়ে নেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আলমডাঙ্গা উপজেলা প্রশাসন মাটি কাটার বিরুদ্ধে ধারাবাহিকভাবে কঠোর অবস্থান নেওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন এলাকার সচেতন মহল। তাদের মতে, শুধু জরিমানা করেই এই ধ্বংসযজ্ঞ থামানো সম্ভব নয়। মাটি কাটা, পরিবহন, ইটভাটায় সরবরাহ এবং এর পেছনে থাকা দালাল চক্রসহ—সব স্তরে নিয়মিত নজরদারি ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
কৃষিজমি ও পরিবেশ রক্ষায় শ্রীরামপুরের মতো মাঠগুলোতে প্রশাসনের এই কঠোর অভিযান নিয়মিত অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় কৃষকেরা।
পূর্বানুমতি ছাড়া কোনো সংবাদ, কলাম, তথ্য বা ছবি ব্যবহার করা কপিরাইট আইনের লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য হবে এবং এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
Leave a Reply