চুয়াডাঙ্গা জেলায় পারিবারিক ও সামাজিক বন্ধনে চরম অবক্ষয় দেখা দিয়েছে। গত এক বছরে জেলায় নিবন্ধিত বিয়ের সংখ্যার তুলনায় তালাকের হার এসে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৯ শতাংশে। জেলা রেজিস্ট্রারের দেয়া তথ্যমতে, জেলায় ২০২৫ সালে মোট ৭ হাজার ৬৩৩টি বিয়ের বিপরীতে তালাক সম্পন্ন হয়েছে ৫ হাজার ৩৩০টি। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় এই চিত্র সবথেকে ভয়াবহ, যেখানে বিচ্ছেদের হার প্রায় ৯৭ শতাংশ। গত রবিবার জেলা উন্নয়ন সমন্বয় কমিটির সভায় জেলা রেজিস্ট্রার লোকমান হোসেন এসব চাঞ্চল্যকর ও উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। তার দেয়া তথ্যমতে, ২০২৪ সালে জেলায় তালাকের হার ছিলো ৬৮.০১ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৯ শতাংশে।
পরিসংখ্যান বিশ্লেষণে দেখা যায়, চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলায় ২ হাজার ২৬১টি নিবন্ধিত বিয়ের বিপরীতে ২ হাজার ১৯০টি তালাক হয়েছে (হার ৯৭%)। জীবননগর উপজেলায় এক হাজার ৩৬৮টি বিয়ের বিপরীতে তালাক হয়েছে এক হাজার ১৬০টি (হার ৮৪.৮০%)। এছাড়া দামুড়হুদা উপজেলায় এক হাজার ৫৪৭টি বিয়ের বিপরীতে ৯৪৯টি (হার ৬১.৩৪%) এবং আলমডাঙ্গা উপজেলায় ২ হাজার ৪৫৭টি বিয়ের বিপরীতে এক হাজার ৩০টি (হার ৪২%) তালাক নিবন্ধিত হয়েছে।
জেলা রেজিস্ট্রার লোকমান হোসেন তার পর্যবেক্ষণে জানান, বিয়ের পর তালাকের অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে অনলাইন জুয়া এবং মাদকের ভয়াবহ বিস্তার। ভার্চুয়াল জগতের নেশা এবং মাদকাসক্তির ফলে পরিবারগুলোতে কলহ ও আর্থিক সংকট চরম আকার ধারণ করছে, যা শেষ পর্যন্ত বিচ্ছেদে গিয়ে ঠেকছে।
বিষয়টি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন। তিনি বলেন, ‘তালাকের এই আধিক্য সমাজে এক ধরণের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিরতা তৈরি করছে।’ পারিবারিক এই ভাঙন রোধে সামাজিক সচেতনতা ও আইনি পদক্ষেপের অংশ হিসেবে আগামী ঈদুল ফিতরের পর জেলার সকল ধর্মের নিকাহ রেজিস্ট্রারদের (কাজী) নিয়ে বিশেষ বৈঠক ডাকার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। সেখানে বিচ্ছেদ কমিয়ে আনতে কার্যকর দিকনির্দেশনা প্রদান করা হবে বলে জানা গেছে।
Leave a Reply